দিল্লির হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ২১ প্রাণহানি, অবহেলার অভিযোগে গ্রেফতার রাঁধুনি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই…
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে প্রয়োজন হলে অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই মুহূর্তে এমন পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টন বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালীর মতো জটিল পরিস্থিতিতে কাজ করার সক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দেশটি “নিঃসন্দেহে” একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে পারবে। তবে তিনি বলেন, শুধু সক্ষমতা থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার অগ্রাধিকার কোথায় নির্ধারিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে, যার একটি বড় অংশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উপস্থিতি বজায় রাখা অস্ট্রেলিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ায় তা স্বাগত জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তবে এখনো পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ। এ লক্ষ্যে তিনি সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন, যেখানে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস নিয়ে আলোচনা হবে। সিঙ্গাপুর অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং তা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলাকে সমর্থন জানালেও সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলবানিজ। তিনি যুদ্ধের লক্ষ্য সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সংঘাতের সময় অস্ট্রেলিয়া তাদের যথেষ্ট সহায়তা করেনি। একই সঙ্গে তিনি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তেলের দাম এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষক সল কাভোনিক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পার্ল জিটিএল প্ল্যান্টসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন সক্ষমতা বন্ধ রয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au