বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক পদচ্যুত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। তবে তার পাঠানো চিঠির পরও এখন পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। সংস্থাটির সংশ্লিষ্টদের মতে, বুলবুলের অভিযোগের পেছনে তার আগের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে।
বিসিবি সভাপতির পদ থেকে অপসারণের পর বুলবুল অভিযোগ করেন, তার অপসারণ প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপ ছিল, যা আইসিসির নীতিমালার পরিপন্থী। সেই ভিত্তিতে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেন।
তবে আইসিসি এখনো সেই চিঠির জবাব দেয়নি বলে পিটিআই সূত্রে জানা গেছে।
আইসিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বুলবুলের আগের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান অভিযোগের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অবস্থান খুঁজে পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুলবুল যখন বিসিবি সভাপতি ছিলেন, তখন তিনি আইসিসিকে জানিয়েছিলেন যে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় দল নির্দিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি। সে সময় তিনি সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নেন বলে জানা যায়।
কিন্তু এখন একই ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি দাবি করছেন যে তার অপসারণে সরকারি হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং এটি আইসিসির নিয়মবিরুদ্ধ।
এই দুই ভিন্ন অবস্থানকে আইসিসি সংশ্লিষ্টরা “দ্বিমুখী আচরণ” হিসেবে দেখছেন বলে পিটিআই জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিসির এক পরিচালক পিটিআইকে বলেন, বিষয়টি তাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে, কারণ একই ব্যক্তি এক সময় সরকারি সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছিলেন, আবার এখন সেটিকেই হস্তক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন।
সূত্র অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযোগে আইসিসি সাধারণত খুব সতর্ক ও ধীরগতির প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বুলবুলের অভিযোগ আইসিসির কাছে এখনই অগ্রাধিকার পাচ্ছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
এই কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিসিবিতে নতুন প্রশাসনিক পর্ব শুরু হয়েছে, যেখানে বুলবুলের নেতৃত্বের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক পরিবর্তন এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে বুলবুলের আইসিসির কাছে অভিযোগ, অন্যদিকে নতুন অ্যাড-হক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ মিলিয়ে বিসিবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের সময়।
সূত্রঃ পিটিআই