হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- বাংলাদেশে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন জাতীয়ভাবে…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না করে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে মূল প্রশ্ন ছিল ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার সন্ধ্যায়। এর আগেই নতুন দফার আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তাঁর সরকারি বিমান এয়ারফোর্স টু অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে প্রস্তুতও রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সফরটি অনিশ্চয়তায় পড়ে, কারণ ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল এবং আগাম সম্মতি চেয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তেহরান থেকে কোনো জবাব না আসায় ওয়াশিংটনে সন্দেহ তৈরি হয় যে সরাসরি আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব হবে কি না।
কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে মতপার্থক্যই এই নীরবতার প্রধান কারণ। বিশেষ করে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি তাঁর অধীনস্থদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না, নাকি পর্দার আড়ালে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তা ইরানের ভেতরের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান এবং সিআইএ পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও শেষ মুহূর্তে কোনো প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, বিদ্যমান মজুত এবং আলোচকদের ক্ষমতা নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের ভেতরে ঐকমত্য নেই। ফলে আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার পরিবর্তে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময় বাড়িয়ে দেন। যদিও তিনি নতুন সময়সীমা নির্দিষ্ট করেননি, তবে এটি অন্তত দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরান সরকারকে ‘গুরুতরভাবে বিভক্ত’ উল্লেখ করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান আলোচনায় ফেরার কোনো ইঙ্গিত দিলেই দ্রুত নতুন বৈঠকের আয়োজন করা হবে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নতুন করে আলোচনায় বসার আগে তাদের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টারা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, অবরোধ ও সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে তা যুদ্ধেরই সমতুল্য এবং এর জবাব সামরিকভাবেই দেওয়া উচিত।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও এই পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু উপদেষ্টা মনে করছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে ইরান আলোচনায় সময়ক্ষেপণ করতে পারে। আবার অন্যরা মনে করছেন, সময় বাড়ানো হলে তেহরান একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।
বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এসব ইস্যুতে উভয় পক্ষ কতটা নমনীয় হতে পারে, তার ওপরই সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, তারা এমন কোনো চুক্তি করতে চায় না, যা পূর্ববর্তী পরমাণু চুক্তির মতো দুর্বল বলে বিবেচিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট নিজেও দাবি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই সংঘাতে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে এবং একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ এখনও আছে।
সূত্র: সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au