বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে আদানির ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি যখন আগে থেকেই চাপের মধ্যে, তখন ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে বড় ধরনের কারিগরি…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনাকে ঘিরে আবারও আশার আলো দেখা দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, এই সংলাপের পথে রয়েছে একাধিক জটিল প্রতিবন্ধকতা। একদিকে আলোচনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে অবিশ্বাস, সামরিক উত্তেজনা ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ সবসময় সংলাপ ও সমঝোতার পক্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইরান আলোচনার পথ খোলা রেখেছে এবং তা অব্যাহত রাখতে চায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সামরিক হুমকি প্রকৃত আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় আন্তর্জাতিক পরিসরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলা এবং চলমান সামরিক কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে নষ্ট করছে। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন সব পক্ষ তা বাস্তবভাবে মেনে চলবে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গালিবাফ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানের কাছ থেকে কোনো ধরনের ছাড় আদায় সম্ভব নয়। অতীতেও তা সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। তাঁর ভাষায়, একমাত্র কার্যকর পথ হলো ইরানের জাতীয় অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও আলোচনার একটি সম্ভাব্য পথ খুঁজছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ইরানকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এই বার্তা ইরানের কাছে কতটা আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আলোচনার সুযোগ তৈরি করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় চলমান সংঘাত এই আলোচনার পরিবেশকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
অপরদিকে, লেবাননে সাম্প্রতিক এক হামলায় সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন। যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও লেবাননের বিভিন্ন মহল এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে দেখছে। এই ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে কার্যকর সংলাপ শুরু করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে হবে এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগোতে হবে। অন্যথায় আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au