নিজ দেশের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল ভারত। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থির পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে নিজেদের সব নাগরিককে ইরান ছাড়ার জন্য নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারত। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের আকাশপথ বা স্থলপথে ইরানে যেকোনো ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দিল্লি।
তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে আংশিকভাবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। তাই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ইরান ভ্রমণ পুরোপুরি অনিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দূতাবাসের সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়, “ভারত ও ইরানের মধ্যে কিছু ফ্লাইট চালু হওয়ার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পূর্ববর্তী নির্দেশনার ধারাবাহিকতায়, ভারতীয় নাগরিকদের আকাশপথ বা স্থলপথে কোনোভাবেই ইরান ভ্রমণ না করার জন্য দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। এই অস্থিরতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকে প্রভাবিত করছে, যার ফলে আকাশপথে যাত্রীদের জন্য অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে আকাশসীমায় বিধিনিষেধ, রুট পরিবর্তন এবং পরিচালনাগত অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ইরান থেকে ও ইরানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের শুধু ইরান ত্যাগই নয়, বরং বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত স্থল সীমান্ত পথ ব্যবহার করে দ্রুত দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের সহায়তার জন্য নতুন দুটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে, যাতে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়রা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন এবং নিরাপদে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাগরিককে দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত স্থলপথ ব্যবহার করে দ্রুত দেশ ত্যাগ করতে হবে।”
এর আগে এপ্রিলের শুরুতেই ভারত সরকার প্রথম দফায় সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের ইরান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া দেশটিতে অবস্থান না করার আহ্বান জানায়। তখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত ছিল এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
নতুন নির্দেশনায় সেই আগের সতর্কবার্তার ধারাবাহিকতা টেনে বলা হয়েছে, ৭ এপ্রিল ২০২৬-এর পরামর্শের পরও যেসব ভারতীয় নাগরিক এখনও ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুততম সময়ে নিরাপদ পথে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ভ্রমণ সতর্কতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, আঞ্চলিক সামরিক প্রস্তুতি এবং আকাশপথে অনিশ্চয়তা মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ ইরানে থাকা হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্রুত দেশে ফেরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে