গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি জন্য প্রয়োজন কৃত্রিম পা ও মুখে প্লাস্টিক সার্জারি
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে কৃত্রিম পা সংযোজন ও প্লাস্টিক সার্জারির…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- সাতসকালে কলকাতার গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারে অংশ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হাতে ক্যামেরা নিয়ে তিনি প্রিন্সেপ ঘাট ও আউটরাম ঘাট এলাকায় ঘুরে দেখেন, ছবি তোলেন এবং গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এ সময় তিনি নৌকার মাঝি ও প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত জনসংযোগও করেন।
শুক্রবার সকালে কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে ছিল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ। গঙ্গার ধারে অল্প কয়েকজন মানুষ প্রাতঃভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি ঘিরে বাড়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা। পরে দেখা যায়, তিনি নৌকায় করে গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ করছেন।
নৌকায় বসে মোদীকে ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে দেখা যায়। চোখে সানগ্লাস, মুখে স্বাভাবিক আনন্দের ছাপ নিয়ে তিনি চারপাশের দৃশ্য ধারণ করেন। নৌকাবিহারের সময় পিছনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল বিদ্যাসাগর সেতু ও হাওড়া ব্রিজ, যা কলকাতার অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য।
নৌকায় থাকা অবস্থায় তিনি মাঝিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নদীর তীরে হাঁটতে থাকা প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গেও তিনি কিছুক্ষণ আলাপ করেন। উপস্থিত অনেকেই এ সময় মোদীর সঙ্গে হাত নেড়ে অভিবাদন বিনিময় করেন।
পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাবিহারের একাধিক ছবি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবির ক্যাপশনে তিনি গঙ্গাকে বাংলার মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, প্রত্যেক বাঙালির মনে গঙ্গার বিশেষ স্থান রয়েছে এবং এটি বাংলার আত্মার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। হুগলি নদীর তীরে কিছু সময় কাটাতে পারায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মোদী আরও লেখেন, নৌকার মাঝিদের সঙ্গে দেখা করে তিনি তাদের পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, তাদের কাজের কোনো তুলনা নেই। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং মানুষের সমৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।
তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। তিনি দাবি করেন, অতীতে গঙ্গা পরিষ্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হলেও তার বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, গঙ্গার নাম ব্যবহার করে উন্নয়নের কথা বলা হলেও জনগণ সেই সুফল পাচ্ছে না।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আবহে এমন সফর ও জনসংযোগ কার্যক্রম রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। বিশেষ করে গঙ্গা ও কলকাতার মতো আবেগঘন বিষয়কে কেন্দ্র করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকে বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে কলকাতার গঙ্গাবক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই নৌকাবিহার শুধু একটি প্রাতঃভ্রমণ বা সফর নয়, বরং তা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সৌন্দর্য, জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক একসঙ্গে মিলেমিশে গেছে।
সূত্রঃ টিভি নাইন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au