৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ মোট পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলমান উত্তেজনা, সামরিক ব্যয় এবং মার্কিন বাহিনীর পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয় এবং বিশ্বকে এমন একটি অবস্থায় নিতে হবে, যেখানে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগই থাকবে না। তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্র যেন কেউ কোনোভাবেই ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান জানিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হামলা চালানো হতে পারে এবং দেশটির অবকাঠামো ধ্বংসের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপকভাবে পড়ছে বলে দাবি করেছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে বা স্থানান্তর করতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পেন্টাগন এখন এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ড থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে, যাতে চলমান সামরিক কার্যক্রম বজায় রাখা যায়। যদিও হোয়াইট হাউস এখনো এই অভিযানের মোট ব্যয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্ভুল নিশানায় আঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্র, ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার সংঘাত চলতে থাকলে এই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রণতরিটি তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি মোতায়েন করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিমিটজ শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ার ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
এর আগে আরেকটি শক্তিশালী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড লোহিত সাগরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় সেন্টকম। এটি মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীনে কাজ করছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। নতুন রণতরি যুক্ত হলে সেটি বিদ্যমান বহরের সঙ্গে যুক্ত হবে নাকি কোনো জাহাজের পরিবর্তে মোতায়েন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের আকাশে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ শুরু করে।
মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট সক্রিয় করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। নূর নিউজও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কী ধরনের লক্ষ্যবস্তু ছিল বা সেগুলো কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান ইতোমধ্যেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
সূত্রঃ মিডিল ইস্ট আই
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au