যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেশটির ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউএফএলএ নিউজ চ্যানেল ৮ জানায়, নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, নিহত জামিল লিমন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। দুজনেরই বয়স ২৭ বছর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি লিমনের রুমমেট এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নাহিদা বৃষ্টির বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজ বাসায় জামিল লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিসে নিখোঁজের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তদন্ত শুরু হয়।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে নাহিদা বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবার দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তার নিখোঁজের ঘটনাও পৃথকভাবে নথিভুক্ত করে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছিল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেটকে আটক করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে জানা গেছে। তবে কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বা এর পেছনের উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
এদিকে নাহিদা বৃষ্টির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তাকে উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও শোকের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া এবং তার মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থীকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা এখন সবচেয়ে জরুরি।