অস্ট্রেলিয়া

সংবাদ ফিচার | ওটিএন বাংলা

“পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়”- অ্যানজাক (ANZAC) ডেতে ভিয়েতনাম ভেটেরান গ্যারি

  • 4:01 pm - April 25, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১২ বার
যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শান্তির ডাক—ওটিএন বাংলাকে গ্যারির সাক্ষাৎকার

মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: আজ ২৫ এপ্রিল, অস্ট্রেলিয়া জুড়ে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। প্রতি বছর এই দিনটি অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মানুষের কাছে  ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালের এই দিনে তুরস্কের গ্যালিপোলি উপদ্বীপে অবতরণ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের যৌথ বাহিনী—যা সংক্ষেপে অ্যানজাক নামে পরিচিত। তাদের লক্ষ্য ছিল কনস্টান্টিনোপল দখল করে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়া। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী তা সফল হয়নি। প্রবল প্রতিরোধ, কঠিন পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ আট মাসের অচলাবস্থার পর সেই অভিযান শেষ হয় বিপুল প্রাণহানির মধ্য দিয়ে। তবুও গ্যালিপোলির সেই লড়াই ইতিহাসে এক গভীর ছাপ রেখে যায়, যা পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে ওঠে।

এই দিনে শুধু গ্যালিপোলির সৈন্যদের নয়, বরং সব যুদ্ধ ও শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।

এমনই এক দিনে, ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ভেটেরান গ্যারি। তিনি একসময় বিমান বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের সেই অধ্যায় তাকে আজও গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই তার কণ্ঠে শোনা যায় স্পষ্ট আহ্বান—“এই পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়।”

“পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়”—ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভেটেরান গ্যারি

আজ তিনি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন স্মরণ অনুষ্ঠানে। মেলবোর্নের ফিলিন্ডার্স স্ট্রিট অ্যানজাক (ANZAC) ডে প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ের সব নিহত সেনাসদস্যদের। তার কাছে এই দিনটি কেবল অতীত স্মরণ নয়, বরং একটি নীরব প্রতিজ্ঞা—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা।

গ্যারির পরিবার তিন প্রজন্মে বিস্তৃত, রয়েছে ১০ জন নাতি-নাতনি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তার ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, “আমরা যা দেখেছি, তারা যেন তা না দেখে। তারা যেন এমন এক পৃথিবীতে বড় হয়, যেখানে যুদ্ধের ভয় নেই, আছে শুধু সহমর্মিতা ও শান্তি।”

তার কাছে অ্যানজাক ডে মানে গভীরভাবে ভাবার একটি দিন—যে দিনটি তাকে মনে করিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার লাখো মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাস শুধু যুদ্ধের নয়, বরং মানবতারও।

গ্যারির কণ্ঠে উচ্চারিত বার্তাটি আজকের পৃথিবীর জন্য এক শক্তিশালী বার্তা—যুদ্ধ কখনো সমাধান নয়, শান্তিই একমাত্র পথ।

এই শাখার আরও খবর

এয়ারবাস কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেপ্তার

এয়ারবাসের বিমান কেনাবেচায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলে ও দেশটির সংসদ সদস্য নামাল রাজাপক্ষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ…

কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় জ্বলছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। শুক্রবার দিনের আলোতে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায়…

‘নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স’

গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গ্যাস…

দীর্ঘ সময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদির শুভেচ্ছা, কী ছিল বার্তায়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়ে ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে…

অটো পাইলট মোডে মহাসড়কের মাঝখানে থেমে যায় টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় গভীর রাতে ব্যস্ত মহাসড়কের মাঝখানে একটি টেসলা গাড়ি হঠাৎ সম্পূর্ণ থেমে যাওয়ার পর পেছন থেকে আসা বিশালাকৃতির ফোর্ড এফ-৩৫০ পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় গাড়িটির…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au