অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অ্যানজাক (ANZAC) ডে পালিত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: ২৫ এপ্রিল শনিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, নীরবতা এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট বা খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত এক নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই মাত্র ১০টি দেশের বাসিন্দা। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ আবার মাত্র তিনটি দেশেই কেন্দ্রীভূত। সুদান, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এক-তৃতীয়াংশ মানুষের অবস্থান, যারা তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে।
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ এখনো সশস্ত্র সংঘাত। তবে এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতিও বহু দেশে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ১০টি প্রধান সংকটাপন্ন দেশ হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে দেশভিত্তিক ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং সংকটের গভীরতা ও বিস্তারের ধরন অনুযায়ী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু দেশে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার এবং জিম্বাবুয়ের মতো দেশে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এতে বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
দশম সংস্করণের এই প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো এক বছরে দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গাজা উপত্যকা এবং সুদানের কিছু অংশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিসংখ্যানে বলা হয়, গত বছর ৪৭টি দেশ বা অঞ্চলে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। এটি ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সহায়তার তীব্র ঘাটতির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে, যা সংকট মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি খাদ্যসংকটকে আরও গভীর করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের খরচও বেড়ে গেছে। জ্বালানি ও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাত বড় চাপের মধ্যে পড়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ এবং বাধার কারণে সার উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। যেহেতু সার উৎপাদন তেলনির্ভর উপাদানের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাই জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সরাসরি কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও এএফপিকে বলেন, বর্তমানে রোপণ মৌসুম চলায় জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং জলবায়ু সহনশীল ফসল উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বাড়ানো এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করার মাধ্যমে বহির্ভরতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি স্থানীয় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করা যাবে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au