আগামীকাল হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের নারীরা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নারী এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দারুণ আত্মবিশ্বাসে আছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা-এ অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে আগামীকাল…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ‘ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার পতনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে’ এমন গুরুতর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অর্থ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে প্রভাব বিস্তার এবং সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হয়ে থাকতে পারে।
নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা নথিপত্রে দেখা গেছে, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণ’ শিরোনামের একটি প্রকল্পকে ঘিরে এই অর্থায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে। ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) এর মাধ্যমে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।
২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে ২০১৭ সালের একটি সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। আনুষ্ঠানিকভাবে এর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা। এই কর্মসূচির মোট অর্থ বরাদ্দ ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৮ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৯৯ লাখ ডলারে উন্নীত করা হয়, যা প্রায় ১৫৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এই অর্থ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের তহবিল থেকে।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাস পর মন্তব্য করেন, এই অর্থ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ প্রভাবিত করতে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তৎকালীন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এই অর্থ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ প্রভাবিত করতে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন জোগাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
নর্থইস্ট নিউজের প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। এতে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্র-সংযুক্ত একটি বাংলাদেশি বেসরকারি সংস্থা, একটি সংবাদপত্র এবং একটি যোগাযোগভিত্তিক বিপণন প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার গোপন ভূমিকা, যারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কথিত ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, মোট ২ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের একটি অংশ ঢাকাভিত্তিক তিনটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর তালিকা করা হয়। এগুলো হলো একটি দৈনিক পত্রিকা সমকাল, বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট। এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট কোডযুক্ত সমঝোতা চুক্তির আওতায় বরাদ্দ করা হয়।
‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণ’ কর্মসূচির অর্থায়ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ মিশন। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সময়সীমা ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা মূল ঘটনাগুলোর সময়সীমার সঙ্গে মিলে যায়।

দৈনিক সমকালে অর্থায়নের তথ্য। ছবিঃ সংগৃহীত
আরও একটি নথিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ থেকে মুহাম্মদ ইউনূস সরে দাঁড়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় থেকেই তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রধান হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দল ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সহিংসতা কমানো। এছাড়া রাজনৈতিক দল, তৃণমূল কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সহিংসতা পর্যবেক্ষণ ও শান্তিপূর্ণ বিকল্প প্রচারের কথাও বলা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, একটি উপ-চুক্তির আওতায় সমকালকে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন এবং নারী ও তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৯ হাজার ডলার পেয়েছিল।
একইভাবে বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেডকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দল গঠন ও সংঘাত নিরসনের কৌশল নিয়ে একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ২০০ ডলার পাওয়ার কথা ছিল।
সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ যায় দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বদিউল আলম মজুমদার। এই সংস্থাকে রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অর্থ ছাড়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ১৫ লাখ ডলার এবং ২০২৩ সালের ১১ জুন ৫০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়। তবে ২০২২ ও ২০২৪ সালের কিছু নির্দিষ্ট তারিখে কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি।
মোট বাজেটের বড় অংশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার খাতে ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা ও গণতন্ত্র তহবিল থেকে খুব সামান্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান এই ধরনের অর্থ গ্রহণ করেছে এমন কোনো সরকারি রেকর্ড নেই। যদিও নথিতে সমকাল, বিটনিক কমিউনিকেশনস এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টে অর্থ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au