পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে শিল্পখাতের সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়ছে জাপান , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- জাপানে উচ্চ দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটির শীর্ষ দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। চলতি মাসের শেষ দিকে চালু হতে যাওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের পথ সহজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনএআইএসটি) এবং ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ওআইএসটি) জানিয়েছে, ‘ট্রিপল-হেলিক্স রাউন্ডটেবল ফর ইন্টারন্যাশনাল পিএইচডি ট্যালেন্ট’ শীর্ষক এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা। এর মাধ্যমে উচ্চ প্রশিক্ষিত গবেষকদের বেসরকারি খাতে প্রবেশ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে।
এনএআইএসটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গবেষণা সক্ষমতার ধীরগতি, ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে জাপান বর্তমানে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা জরুরি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে জাপানের শিক্ষা ও গবেষণার সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পথ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে এনএআইএসটির সহকারী অধ্যাপক ও উদ্যোগটির প্রতিনিধি নায়োয়া তানিগুচি জানান, ২০২৫ সালে জাপানে ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশই বিদেশি। এনএআইএসটিতে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ওআইএসটিতে ৭৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
তবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো সীমিত। এনএআইএসটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থী জাপানে থেকে কাজ করতে চান, কিন্তু ২০২৩ অর্থবছরের হিসাবে মাত্র ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক স্নাতক জাপানে চাকরি পেয়েছেন। সারা দেশের ক্ষেত্রে এই হার আরও কম, প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
নায়োয়া তানিগুচি বলেন, ভাষাগত বাধা এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে অনেক প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহ এই সমস্যার প্রধান কারণ। যদিও কিছু প্রতিষ্ঠান ইংরেজিভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনো জাপানি ভাষাজ্ঞান অপরিহার্য হয়ে রয়েছে।
নতুন এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। তথ্য বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সহায়তা এবং জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
জাপানের শীর্ষ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় এবং তসুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৭টি কোম্পানি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে, যেখানে বড় করপোরেশন থেকে শুরু করে উদীয়মান স্টার্টআপও রয়েছে।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার মেলা আয়োজন, সরাসরি শিক্ষার্থী সহায়তা প্রদান এবং সফল নিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে করপোরেট খাতে আন্তর্জাতিক পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।