পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে সফরের শুরুতেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই তেহরানের।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানান, আরাঘচি শুধুমাত্র পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেই বৈঠক করবেন। তার ভাষায়, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই এবং ইরানের অবস্থান পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমেই জানানো হবে।
এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে “ইরানের ক্ষমতায় থাকা পক্ষের সঙ্গেই” আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে এবং সেটি দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষা করছে। তবে প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় অংশ নিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। তাদের উপস্থিতি ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এদিকে উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে ঘিরে ইসলামাবাদে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, স্থগিত করা হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।