মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গুলির ঘটনার পর এটির সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে ‘একক হামলাকারী’ বা লোন উলফের কাজ হিসেবে দেখছেন এবং তিনিও একই ধারণা পোষণ করছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না এর সঙ্গে বড় কোনো নেটওয়ার্ক জড়িত, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
ইরান যুদ্ধের সঙ্গে এ হামলার কোনো সংযোগ আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। “খুব দ্রুতই আমরা আরও পরিষ্কার তথ্য জানতে পারব। বিশ্বের সেরা তদন্তকারী দল এই ঘটনা নিয়ে কাজ করছে,” বলেন তিনি।
এদিকে ইরান প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এমন সিদ্ধান্তের কারণে নিজেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তবে তিনি এতে নিরুৎসাহিত নন। “আমি যা করছি, দেশের স্বার্থেই করছি এবং এতে আমি গর্বিত,” বলেন তিনি।
নিজের মানসিক অবস্থার বিষয়ে ট্রাম্প জানান, এই ঘটনা তাকে বিচলিত করেনি। বরং তিনি মনে করেন, এ ধরনের হামলা তার নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না। “এই ঘটনা আমাকে ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না,” বলেন তিনি।
ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে।
সুত্রঃ বিবিসি