বাঁ দিকে, প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মায়ের সেই স্কেচ। মোদীকে উপহার দিয়েছিল ইংরেজবাজারের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী অনুষ্কা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের মালদার এক স্কুলছাত্রীর আঁকা একটি পেন্সিল স্কেচ ছুঁয়ে গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র মন। সেই ছবির প্রশংসা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন এবং স্বাক্ষরিত চিঠি পাওয়ার পর আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী অনুষ্কা চক্রবর্তী।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইংরেজবাজারের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী অনুষ্কা প্রায় তিন মাস আগে একটি পেন্সিল স্কেচ আঁকে। সেই স্কেচে ফুটে ওঠে এক আবেগঘন মুহূর্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর মা হীরাবেন মোদি-র সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন, আর মা স্নেহভরে ছেলের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছেন। মায়ের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এই দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিল অনুষ্কা।
গত ১৭ জানুয়ারি মালদা টাউন স্টেশনে হাওড়া-কামাখ্যা রুটের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন উপলক্ষে সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্কাও ছিল। সে সময় অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার নিয়ে এসেছিল, তবে অনুষ্কার আঁকা স্কেচটি বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে মোদির। তিনি ছবিটি গ্রহণ করেন এবং অনুষ্কার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে উৎসাহ দেন। সেই মুহূর্তটি অনুষ্কার জীবনের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।
এরপর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায় অনুষ্কা। কিন্তু হঠাৎ করেই নতুন এক আনন্দের খবর আসে। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তার পরিবারে ফোন করা হয়। প্রথমে ফোনটি রিসিভ করেন অনুষ্কার বাবা তাপস চক্রবর্তী, যিনি একজন সরকারি স্কুল শিক্ষক। পরে অনুষ্কার সঙ্গেও কথা বলা হয় এবং তার আঁকা ছবির জন্য প্রশংসা জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও পাঠানো হয় তার উদ্দেশে।
এই স্বীকৃতিতে ভীষণ উচ্ছ্বসিত অনুষ্কা। সে জানায়, এটি তার জীবনের এক ভিন্নরকম অনুভূতি, যা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এত আনন্দ আগে কখনো অনুভব করেনি বলেও জানায় সে।
ইংরেজবাজারের ঝলঝলিয়া মনস্কামনা রোড এলাকায় অনুষ্কার বাড়ি। তার বাবা তাপস চক্রবর্তী শিক্ষকতা করেন এবং মা শ্রাবন্তী চক্রবর্তী গৃহিণী। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি তার আগ্রহ ছিল।
কেন এই বিশেষ মুহূর্তটি আঁকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনুষ্কা, সে প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, একজন মানুষের জীবনে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। সেই ভাবনা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মায়ের একটি আবেগঘন মুহূর্তকে ছবিতে তুলে ধরতে চেয়েছিল সে।