সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তেও প্রস্তুত: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
মেলবোর্ন, ১১ মে- দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন সহ্য করা হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ…
মেলবোর্ন, ১১ মে- বাংলাদেশে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায় এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি এবং নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন বলে আদালত উল্লেখ করেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও আদালত মন্তব্য করেন।
রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত ভ্রূণের ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন। হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে এই ডাটাবেজ তৈরি এবং নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন।
আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের কারণে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালতের তদারকিতে থাকে।
এ রিট আবেদনটি ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au