দুতার্তের ‘মাদকযুদ্ধ’ ঘিরে সিনেটর দেলা রোসার বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানা । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ মে- ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেশটির সিনেটর ও সাবেক পুলিশ প্রধান রোনাল্ড দেলা রোসার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। একই দিনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকেও দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগে সিনেটে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার গোপনে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। বর্তমানে পরোয়ানাটি প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।
আইসিসির অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রোনাল্ড দেলা রোসা প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের নেতৃত্বাধীন মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ধরতে গেলে তিনি দ্রুত সিনেট ভবনের ভেতরে নিজের কার্যালয়ের দিকে ছুটে যান। পরে তাকে সিনেটের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষামূলক হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকেও গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিসিতে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রসিকিউটররা রোনাল্ড দেলা রোসাকে দুতার্তের সহঅভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি বরাবরই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
একই দিনে ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকে দুর্নীতি, ঘুষ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সিনেটে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইনের নিম্নকক্ষের ৩১৮ জন সদস্যের মধ্যে ২৫৫ জন তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন, যা সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় এক-তৃতীয়াংশের বেশি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সারা দুতার্তে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেন, বিপুল পরিমাণ অঘোষিত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র, ফার্স্ট লেডি ও সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
এক পর্যায়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে হত্যা করা হলে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার জন্য একজন ঘাতক ভাড়া করা আছে। পরে তিনি বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সারা দুতার্তে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী দল জানিয়েছে, সিনেটে তারা ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষে শক্তভাবে লড়বে এবং অভিযোগকারীদেরই এখন প্রমাণ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুতার্তে পরিবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এই আইনি ও রাজনৈতিক চাপ ফিলিপাইনের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ সারা দুতার্তেকে আগামী নির্বাচনের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
এদিকে রাজধানী ম্যানিলায় অভিশংসনের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা “ইমপিচ সারা নাও” স্লোগান দিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফিলিপাইনে বর্তমানে আইনি লড়াই ও ক্ষমতার রাজনীতি এক নতুন মোড়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুতার্তে পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ