স্টারমার সরকারের ভাঙন । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবির পর একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে টালমাটাল হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ সরকার। সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুবাইর আহমেদ। এর ফলে একদিনে লেবার সরকারের চার মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে জুবাইর আহমেদ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাজ্যের মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার ওপর বিশ্বাস হারিয়েছে।”
জুবাইর আহমেদের আগে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জেস ফিলিপস, ডিভল্যুশন, ফেইথ অ্যান্ড কমিউনিটিজ বিষয়ক মন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ এবং নারী ও কন্যাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভিকটিমস বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস জোন্স। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব পদত্যাগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এদিকে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা লেবার এমপিদের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ এমপি অ্যান্ড্রু কুপার এ দাবিতে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৮৬ জন লেবার এমপি প্রধানমন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে অ্যান্ড্রু কুপার বলেন, “এখন প্রধানমন্ত্রীর উচিত কবে তিনি সরে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার সময়সূচি দেওয়া।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে সংকটের মধ্যেও স্টারমার এখনো পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি সরকার পরিচালনা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। যদিও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন তীব্র আলোচনা চলছে।
সুত্রঃ বিবিসি