অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন কর সংস্কার নিয়ে ভোটারদের বিরোধিতা, জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে আলবানিজ সরকার
মেলবোর্ন, ১৮ মে- অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ সরকার নতুন বাজেটে আবাসন খাতে বড় ধরনের কর সংস্কার চালুর পর তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে…
মেলবোর্ন, ১৮ মে- মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে ফ্রান্সে চলমান মানবপাচার তদন্তে নতুন করে অন্তত ১০ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী সামনে এসেছেন। ফরাসি প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এদের অনেকেই আগে কখনো অভিযোগ করেননি বা তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রসিকিউটর লর বেকোয়া জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে কিছু নারী আগে থেকেই তদন্তকারীদের পরিচিত ছিলেন। তবে নতুন করে প্রায় ১০ জন নারী সামনে এসেছেন, যাদের বিষয়ে আগে কোনো তথ্য ছিল না।
তিনি বলেন, বর্তমানে তদন্তকারীরা এসব নারীর বক্তব্য শুনছেন এবং তাদের অভিযোগ যাচাই করছেন। অনেক সম্ভাব্য ভুক্তভোগী বর্তমানে ফ্রান্সের বাইরে অবস্থান করছেন। তাই তাদের সুবিধাজনক সময়ে প্যারিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
জেফরি এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন কাজে ব্যবহার ও পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত চলছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিকভাবে।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, যিনি পূর্বে প্রিন্স অ্যান্ড্রু নামে পরিচিত ছিলেন, জেফরি এপস্টিনের সাথে তার সম্পর্কের জন্য সমালোচিত হয়েছেন, ছবিঃ বিবিসি
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন তদন্ত-সংক্রান্ত নতুন নথিপত্র প্রকাশ করার পর ফ্রান্সে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে, ফ্রান্সে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না অথবা কোনো ফরাসি নাগরিক এপস্টিনের অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিলেন কি না।
তদন্তকারীরা বর্তমানে তথাকথিত ‘এপস্টিন নথি’ খতিয়ে দেখছেন। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানে উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের নাম যাচাই করা হচ্ছে।
প্রসিকিউটর লর বেকোয়া জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে এপস্টিনের কম্পিউটার, টেলিফোন রেকর্ড এবং ঠিকানার খাতাও পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন দেশের কাছে অনুরোধ পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফরাসি তদন্তকারীরা প্যারিসে এপস্টিনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়েছিলেন। তার আগের মাসেই নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু হয়।
ফরাসি তদন্তে আগে থেকেই যেসব সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর তথ্য ছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন নারী সাবেক ইউরোপীয় মডেল সংস্থা প্রধান জেরাল্ড মারি এবং প্রয়াত মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেলকে ঘিরে তদন্ত চলাকালে অভিযোগ করেছিলেন।
গত মার্চে ১৫ জন নারী ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে জেরাল্ড মারির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, মারির সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে আশির ও নব্বইয়ের দশকে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে হওয়া আরেকটি তদন্ত ২০২৩ সালে বন্ধ করে দেয় ফরাসি কর্তৃপক্ষ। কারণ, অভিযোগগুলোর সময় অনেক পুরোনো হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে জ্যঁ-লুক ব্রুনেলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতন করেছেন এবং জেফরি এপস্টিনের জন্য ভুক্তভোগী জোগাড় করতেন। ২০২২ সালে কারাগারে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই সাবেক মডেল দাবি করেছেন, ড্যানিয়েল সিয়াদ নামের এক মডেল স্কাউট তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এপস্টিন ও জেরাল্ড মারির কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একজনের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঘটেছিল দুই হাজার সালের দিকে এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে নব্বইয়ের দশকে।
প্রসিকিউটর লর বেকোয়া জানিয়েছেন, মানবপাচার তদন্তে এখন পর্যন্ত যেসব ব্যক্তি সম্ভাব্যভাবে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের কাউকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
জেফরি এপস্টিন ২০০৮ সালে ১৮ বছরের কম বয়সী এক কিশোরীকে যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। সে সময় তাকে ১৩ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au