পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক করা হলে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বরং সরাসরি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের চৌকিতে হস্তান্তর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পুলিশ ও রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীকে এ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগের দিন বুধবারও রাজ্য প্রশাসনের সদরদপ্তর নবান্নে একই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলস্টেশনগুলোর একটি হাওড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই সেখানে কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএর আওতায় পড়েন না, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত সীমান্তে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, হাওড়া স্টেশনে যদি কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ে এবং তিনি সিএএর আওতায় না থাকেন, তাহলে তাকে আদালতে পাঠানো হবে না। বরং প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা দিয়ে সরাসরি বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত অথবা বসিরহাট এলাকার সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছে দিতে হবে। সেখানে বিএসএফের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। ছবি : সংগৃহীত
একই সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে কতজন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছেন, তার বিস্তারিত হিসাব মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিপির মাধ্যমে এ তথ্য নিয়মিতভাবে জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ নির্দিষ্ট শর্তে শরণার্থী মর্যাদা পেতে পারেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা সেই আশঙ্কায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা এসব সম্প্রদায়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
তবে যারা এই আইনের আওতায় পড়বেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার গত বছর এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা পাঠালেও আগের রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার থেকে সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনের সময় থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর দলটি এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার