মেলবোর্ন, ২৩ মে- উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আনতে যাচ্ছে ফিফা। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, সময় নষ্ট কমানো এবং ম্যাচ পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা আনতেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন চারটি নিয়ম ইতোমধ্যে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি হচ্ছে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি। আগে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের পানি পানের সুযোগ দেওয়া হলেও এবার প্রতিটি ম্যাচেই বিরতি থাকবে। আবহাওয়া বা স্টেডিয়ামের তাপমাত্রা যেমনই হোক না কেন, প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিন মিনিটের বিরতি দেবেন রেফারি। ফিফার ভাষ্য, সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ম্যাচের গতি ভেঙে যাবে এবং সম্প্রচারকারীরা অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ পাবে।
এবার বাড়ানো হচ্ছে ভিএআরের ক্ষমতাও। এতদিন গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড ও ভুল পরিচয়ের ঘটনা পর্যালোচনা করা হলেও এখন থেকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তও ভিএআরে দেখা যাবে। পাশাপাশি ভুলভাবে কর্নার দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সেটিও পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে। তবে এসব সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত নিতে হবে, যেন খেলা দীর্ঘ সময় বন্ধ না থাকে।
সময় নষ্ট ঠেকাতে আরও কঠোর হচ্ছে ফিফা। গোলকিক, থ্রো-ইন ও খেলোয়াড় বদলিতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। কেউ বেশি সময় নিলে বল প্রতিপক্ষের কাছে চলে যেতে পারে। গোলকিপারদের জন্য আগে থেকেই আট সেকেন্ডের সীমা চালু আছে। এবার থ্রো-ইন বা গোলকিকেও দৃশ্যমান কাউন্টডাউন চালু হতে পারে। বদলির সময় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে বদলি খেলোয়াড় পরবর্তী স্টপেজের আগে মাঠে নামতে পারবেন না।
আরেকটি আলোচিত নিয়ম হচ্ছে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বললে লাল কার্ড দেখানোর বিধান। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ফুটবলে এমন কিছু বিতর্কিত ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে। শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালে প্রতিবাদ করে মাঠ ছেড়ে গেলে বা খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উসকানি দিলে দলীয় কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দেরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ফিফা জানিয়েছে, কোনো দল ম্যাচ বর্জন করলে সেটিকে নীতিগতভাবে পরাজিত ঘোষণা করা হতে পারে।