দিনে দুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ফিরে এসে চুপচাপ সাব-রেজিস্টার
খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০…
বলিউডের ‘বিগ বি’ খ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের জীবনেও এসেছিল এমন এক সময়, যখন তারকা খ্যাতি থাকলেও হাতে ছিল না কাজ, ব্যাংকে ছিল না টাকা। একসময় ৯০ কোটি টাকার দেনায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। পাওনাদাররা বাড়ির দরজায় এসে নক করতেন। ভয়ে পালিয়ে বেড়াতেন তিনি। এমনকি তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।
১৯৯৫ সালে অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন লিমিটেড (এবিসিএল) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে বেঙ্গালুরুতে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব নেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু নানা কারণে সেই আয়োজন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। এরপর একের পর এক ব্যবসায়িক সমস্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবিসিএল।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, ১৯৯৯ সালে কার্যত দেউলিয়ার অবস্থায় পড়েন অমিতাভ। বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তিতে তিনি ও স্ত্রী জয়া বচ্চন ব্যক্তিগত গ্যারান্টার থাকায় দায়ও তাদের ওপর এসে পড়ে। পরে অমিতাভ জানান, তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫৫টি আইনি মামলা চলছিল এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক ব্যালান্সও একসময় শূন্য হয়ে গিয়েছিল।
সংসার চালাতেও ধার করতে হয়েছিল
অমিতাভের আর্থিক সংকটের সময় পরিবারের অবস্থাও ছিল কঠিন। ছেলে অভিষেক তখন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। বাবার পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার পরের দিনের খাবারের ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সেটিও তখন নিশ্চিত ছিল না।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অভিষেক জানিয়েছিলেন, সংসারে খাবার জোগাড় করতেও অমিতাভকে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়েছিল। এই সময়টিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি। একদিকে বিপুল দেনা, অন্যদিকে কাজের অভাব—সব মিলিয়ে তার সামনে কার্যত নতুন করে জীবন শুরু করার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সেই সময় শিল্পপতি ধীরুভাই অম্বানি অমিতাভকে আর্থিক সহায়তা করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলেও পরে জানা যায়। কিন্তু অমিতাভ সেই সহায়তা না নিয়ে নিজের পরিশ্রমেই পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বুঝতে পারেন, তাকে আবার ফিরতে হবে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গায়—অভিনয়ে।
‘মহব্বতে’ ও ‘কেবিসি’ বদলে দিল সব
অমিতাভ কাজের সন্ধানে পরিচালক যশ চোপড়ার কাছে যান। সেখান থেকেই ‘মহব্বতে’-এ অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি তার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। একই সময়ে শুরু হয় ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’। দুটো কাজই তাকে নতুন করে দর্শকের সামনে প্রতিষ্ঠিত করে।
বিশেষ করে ‘কেবিসি’ অমিতাভের জনপ্রিয়তাকে আবার ঘরে ঘরে ফিরিয়ে দেয়। ২০২১ সালে অনুষ্ঠানের ১০০০তম পর্বে নিজের কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, একসময় কোনো ছবির কাজ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু ‘কেবিসি’ তাকে আবার মানুষের ভালোবাসার সামনে নিয়ে আসে।
এরপর নায়ক হিসেবে নয়, চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেন অমিতাভ। সিনেমা, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করতে থাকেন। বয়স বাড়লেও কাজের প্রতি তার আগ্রহ কমেনি। বরং কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি পরিশ্রমী করে তোলেন।
৯০ কোটি দেনা থেকে হাজার কোটি সম্পদ
অমিতাভের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে পরিশ্রমের বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে রজনীকান্ত দাবি করেন, দেনা পরিশোধ করতে অমিতাভ টানা প্রায় তিন বছর প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠেন।
শুধু দেনা পরিশোধই নয়, হারানো সম্পদও পরে ফিরে পান অমিতাভ। রজনীকান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় যে বাড়ি হারিয়েছিলেন, কঠোর পরিশ্রমের পর সেটিও আবার কিনে নেন তিনি। অর্থাৎ পতনের জায়গা থেকেই ধীরে ধীরে নিজের হারানো সাম্রাজ্য পুনর্গঠন করেন ‘বিগ বি’।
বর্তমানে অমিতাভ বচ্চন শুধু বলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ নন, তিনি ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী তারকাদের একজন। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এর হিসাবে বচ্চন পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা। একসময় যার ব্যাংক ব্যালান্স শূন্য ছিল, সেই অমিতাভের গল্প তাই শুধু তারকাখ্যাতির নয়—এটি ব্যর্থতার পরও আবার শুরু করার গল্প।
তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au