আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ মে- রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়েছে। মামলার চার্জশিট উপস্থাপন, বিচারের জন্য বদলি এবং চার্জগঠনের মাধ্যমে আজই বিচারকাজ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বপ্না আক্তার এবং সকাল ১১টার দিকে সোহেল রানাকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। হাজতখানার ইনচার্জ রিপন মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্দেশনা পেলেই তাদের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে।
মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে করা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেবে পুলিশ। পরে সেটি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করলে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে এবং সেখানেই চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হতে পারে।
সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ জানান, আদালত অবকাশে যাওয়ার আগে মামলার বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আদালত খুললে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
গত ২০ মে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একইদিন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান।
দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতর রাখা ছিল তার কাটা মাথা। অভিযোগে বলা হয়েছে, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান আসামি সোহেল রানা। পরে স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে এবং সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।