বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা নিয়ে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৫ মে- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গভীর রাতে র্যাব ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় র্যাব ও কথিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে র্যাব ক্যাম্পের দেয়াল ও বিভিন্ন অবকাঠামো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র্যাব জানিয়েছে, হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে দেওয়া হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান।
তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো হতাহতের কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা। ছবিঃ সংগৃহীত
র্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়ায় গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশকে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।
র্যাবের কর্মকর্তা কামাল হোসেন নিজের ফেসবুক আইডিতে অভিযানের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা রাস্তা কেটে ফেলেছে। তবে তাদের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে। পরে যৌথবাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরে প্রবেশ করলে শুরু হয় এ জনপদ। মূলত ‘ছিন্নমূল’ ও ‘আলীনগর’ নামে দুটি অংশে বিভক্ত এলাকাটিতে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের আগে ছিন্নমূল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত রোকন বাহিনী এবং আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করত ইয়াসিন বাহিনী।
গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে বহুবার অভিযান চালিয়েও এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা হামলার শিকার হন।

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবিঃ সংগৃহীত
যৌথ অভিযানের পর এলাকাটিতে পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আলীনগরে র্যাব একটি ক্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু করে। হামলায় সেই ক্যাম্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গত ৯ মার্চের অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য ও একজন সোর্স আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
র্যাবের দাবি, সে সময় যাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হয়েছিল, তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং অস্ত্র লেনদেন চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার পরই এলাকাটিতে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয় র্যাব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au