বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা নিয়ে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৬ মে- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মধ্যে একাধিক সংঘাত ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ আসামের করিমগঞ্জ জেলার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ মে থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি ঘটনায় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি কিংবা পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ সোমবার আসামের করিমগঞ্জ জেলার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এক বাংলাদেশিকে আটক করার চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন সশস্ত্র বিএসএফ সদস্য এক বাংলাদেশি নাগরিককে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনজন বিজিবি সদস্য বাধা দেন। পরে আশপাশের বাংলাদেশি গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বিএসএফ সদস্য জনতার দিকে অস্ত্র তাক করেন। এতে গ্রামবাসীরা কিছুটা পিছু হটে যান। পরে ওই বাংলাদেশি নাগরিককে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বিজিবি সদস্যরা তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় গত ৯ মে ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার কমলাসাগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি সন্দেহভাজন চোরাকারবারি নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটার চেষ্টা ও সীমান্ত অতিক্রমের সময় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হন। ভারতীয় পক্ষের দাবি ছিল, ওই ব্যক্তি ভারতীয় টহলদলকে আক্রমণ করেছিলেন।
একইদিন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছোড়া শটগানের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত এবং আরেকজন আহত হন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই দিন পর ১৬ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৭৫০ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
১৮ মে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনাহাট সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে বিজিবিও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ ঘটনাকে গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে বিএসএফ তা অস্বীকার করে এবং ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করে।
২২ মে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮০৬-এর কাছে বিএসএফের সীমান্ত পিলার স্থাপনের চেষ্টা প্রতিহত করে বিজিবি। অভিযোগ করা হয়, জিরো পয়েন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করে কাজ শুরু করায় বিজিবি বাধা দেয় এবং বিএসএফকে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করে।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা জিরো পয়েন্টের কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যদের কাজ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন।
একইদিন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কোলসীমুখ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কাটার চেষ্টা করা ভারতীয় চোরাকারবারিদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সীমান্তজুড়ে একটি ধারাবাহিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট সীমান্ত অতীতেও সীমান্ত হত্যা ও সংঘর্ষের জন্য পরিচিত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩০টি অংশ এখনো কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে। কারণ এসব এলাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে পড়ে, যা আইনগতভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ হলেও সেখানে নির্মাণকাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
১৯৭৫ সালের সীমান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো নির্মাণকাজ উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হয়। বিজিবির অভিযোগ, লালমনিরহাট সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় বিএসএফ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। ছবি : সংগৃহীত
বিজিবির আশঙ্কা ছিল, এসব স্থাপনা ভবিষ্যতে সামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার হতে পারে। এ কারণেই তারা এর বিরোধিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্তে গুলির ঘটনাগুলোর পেছনে গরু চোরাচালানও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে চলাচলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা সবসময় মানা হয় না।
কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, চোরাচালান কেন্দ্র করে ঘুষ বা অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ থেকেও সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়। অতীতে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ বা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুলি চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ত্রিপুরার দুটি সীমান্ত এলাকা এবং সিলেটের সোনাহাট সীমান্তেও একই ধরনের সমস্যার অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়া করিমগঞ্জের কিছু সীমান্ত এলাকা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ নর্থ ইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au