বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা নিয়ে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৬ মে- মেলবোর্নে ফেরার আগে আইএসআইএস–সম্পর্কিত নারী কির্স্টি রস-এমিলের পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় কট্টরপন্থা, জিহাদি প্রচারণা ও উগ্র মতাদর্শের নানা পোস্টে ভরা তার পুরোনো অনলাইন উপস্থিতি এখন তাকে ঘিরে তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রে। আজ রাতেই তিনি মেলবোর্নে ফিরতে পারেন বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের এই নারী ২০১৪ সালে সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অধীনে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দাবি করে আসছেন, তাকে প্রতারণার মাধ্যমে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এখন তিনি সন্তানদের নিয়ে দেশে ফিরতে চান। তবে তার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তার বাবা গাই রস-এমিল।
তিনি গত বছর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কির্স্টি স্বেচ্ছায় তার মরক্কান-অস্ট্রেলীয় স্বামী নাবিল কাদমিরির সঙ্গে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল তথাকথিত খেলাফতের অধীনে বসবাস করা। তার ভাষায়, “তারা সেখানে গিয়েছিল ইসলামিক স্টেটে বসবাস করার উদ্দেশ্যে।” তিনি আরও বলেন, “সে যখন বলে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে, সেটা সত্য নয়।”

আইএস সংশ্লিষ্ট ১৩ জন অস্ট্রেলিয়ান নারী ও শিশু দেশে ফিরে এসেছে। ছবিঃ এবিসি নিউজ
এদিকে পুরোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাওয়া পোস্টগুলোতে দেখা যায়, কির্স্টি রস-এমিল ‘আসমা রস-এমিল’ নামেও সক্রিয় ছিলেন এবং সেখানে কঠোর ধর্মীয় মতাদর্শ ও জিহাদি চিত্রসংবলিত বহু পোস্ট শেয়ার করতেন।
২০১২ সালের জুলাই মাসে তার একটি পোস্টে “জিহাদই একমাত্র সমাধান” লেখা একটি গ্রাফিক পাওয়া যায়, যেখানে অস্ত্র, তলোয়ার ও আরবি লেখার ছবি ছিল। আরেকটি পোস্টে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং ইসলামিক স্টেটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আবু মুসাব আল-জারকাওয়ির ছবি ব্যবহার করে “ইসলামের সিংহ” শিরোনাম দেওয়া হয়।
অন্যান্য পোস্টে নারীদের পোশাক, শালীনতা ও ধর্মীয় কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে মন্তব্য ছিল। ২০১০ সালের একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, কোনো অপরিচিত নারীর সঙ্গে হাত মেলানোর চেয়ে মাথায় পেরেক ঢোকানো ভালো—এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।
আরেকটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে লিখেছিলেন, টাইট পোশাক পরা নারীরা জান্নাতের ঘ্রাণ থেকেও দূরে থাকবে। পাশাপাশি তিনি হিজাব, পর্দা, ধর্মীয় অনুশাসন, শাহাদাত ও পরকাল নিয়ে নানা পোস্ট শেয়ার করতেন।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি একটি পোস্টে অন্য মুসলিম নারীদের জন্য বিয়ের প্রস্তাব খোঁজার অনুরোধও জানান। সেখানে তিনি লেখেন, “কেউ কি এমন বোনকে চেনেন যারা বিয়ে করতে চান? দয়া করে আমাকে ইনবক্স করুন।”

সিডনি ও মেলবোর্নে ফেরার পরই তিন ‘আইএসআইএস ব্রাইড’ গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
তবে এসব পোস্টের পাশাপাশি কিছু ধর্মীয় শুভেচ্ছা ও সাধারণ বার্তাও ছিল। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এসব পোস্টের সামগ্রিক চিত্র তাকে ঘিরে থাকা পরবর্তী আইএস সংশ্লিষ্টতার দাবিকে আরও জোরালো করে।
কির্স্টি রস-এমিল মাত্র ১৯ বছর বয়সে তার স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন। শুরুতে তারা পরিবারকে জানিয়েছিল, তারা মরক্কোতে বসবাস করবে। কিন্তু কয়েক মা
স পর তিনি হোয়াটসঅ্যাপে মাকে জানান, তারা সিরিয়ায় অবস্থান করছেন।
তার স্বামী নাবিল কাদমিরি পরে কুর্দি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বও বাতিল করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। অন্যদিকে কির্স্টি রস-এমিল ও তার সন্তানরা সিরিয়ার আল-হল ও আল-রোজের মতো আটক শিবিরে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করে আসছেন, তিনি কোনো হুমকি নন এবং ভুল পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তবে তার বাবা এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়ের বক্তব্য সত্য নয় এবং তিনি সচেতনভাবেই খেলাফতের অধীনে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
সূত্রঃ The Nightly
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au