কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: খোঁজ মিলছে না নববধূ কনিকা দাসের
মেলবোর্ন, ২৮ মে- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় কনিকা দাশ (১৯) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় চার…
মেলবোর্ন, ২৭ মে-অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ও গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইসলামিক স্টেট বা আইএস-সংশ্লিষ্ট ১৯ নারী ও শিশুকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের একটি অংশ সিডনি এবং আরেকটি অংশ মেলবোর্নে পৌঁছায়। তবে এখনো সিরিয়ায় রয়ে গেছেন কথিত এক ‘আইএস ব্রাইড’। তাকে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সরকারি আদেশ বাতিল চেয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ার আল-রোজ বন্দিশিবির থেকে আনা এই নারী ও শিশুদের ফিরিয়ে আনতে গোপনে দীর্ঘ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। বিমানবন্দর থেকে বের করে আনার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। পুরো অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা ও ফেডারেল পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
ফেরত আসা নারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিডনিতে পৌঁছানো চার নারী ও ছয় শিশুকে বিমানবন্দর থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের শহরের মাসকট এলাকার একটি আবাসিক ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে দাঙ্গা দমন পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। পরে তারা দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে যান।
অন্যদিকে মেলবোর্নে পৌঁছান কাওসার কানজ ও কার্স্টি রস-এমিলেসহ আরও কয়েকজন নারী ও শিশু। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, একজন নিরাপত্তা সহকারী এক সংবাদচিত্রগ্রাহকের ক্যামেরায় ঘুষি মারেন, এতে তিনি আহত হন। পরে ওই নারীদের দ্রুত একটি গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফেরত আসা নারীদের মধ্যে নেসরিন জাহাব, সুমাইয়া জাহাব, আমিনা জাহাব, কার্স্টি রস-এমিলে, কাওসার কানজ ও হায়াম রাদের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন অথবা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
নেসরিন জাহাব দাবি করেছেন, তিনি মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে অজান্তেই আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। পরে বেঁচে থাকার জন্য তিনি এক অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত জঙ্গিকে বিয়ে করেন।
সুমাইয়া জাহাব আবার আইএসে যোগ দেওয়া সাবেক গণিত শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাবের বোন। ২০১৮ সালে এক বিমান হামলায় নিহত হন মোহাম্মদ। তাদের মা আমিনা জাহাবও সিরিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
কার্স্টি রস-এমিলে মেলবোর্নের ড্যান্ডেনং এলাকায় বসবাস করতেন। পরে তিনি তার মরক্কো-জন্ম স্বামীর সঙ্গে সিরিয়ায় যান। তার স্বামী পরে আইএস যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হন এবং ২০১৯ সালে তার অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।
এদিকে এখনো সিরিয়ায় অবস্থান করছেন হোদান অ্যাবি নামের এক নারী। পশ্চিম সিডনির বাসিন্দা হোদান কিশোরী বয়সে বাড়ি ছেড়ে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন। তার মেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সেই আদেশ বাতিল করতে তার পরিবার একজন খ্যাতনামা আইনজীবীর সহায়তায় আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টিম জানিয়েছে, দেশে ফেরত আসা এই ব্যক্তিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মালপত্র তল্লাশি করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় যাওয়া এবং পরে দেশে ফিরে আসা অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, আইএসের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “যারা এমন বিপজ্জনক সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিয়েছে এবং নিজেদের সন্তানদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে, তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য আইন অনুযায়ী জবাবদিহি করতে হবে।”
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও বলেন, সরকার এই গোষ্ঠীকে কোনো সহায়তা দেয়নি এবং দেবে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য অস্ট্রেলিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au