ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ডিজিটাল যুগে শিশুদের জীবনে মোবাইল, ট্যাব ও টেলিভিশনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগের সময়টুকুতে গল্পের বইয়ের জায়গা দখল করে নিচ্ছে স্ক্রিনভিত্তিক বিনোদন। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও পারিবারিক বন্ধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার শিশু ও কিশোর মনোবিজ্ঞানী ডিয়ার্দ্রে ব্র্যান্ডনার জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারই সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর আগে স্ক্রিন থেকে সরাতে হিমশিম খাচ্ছে। তার মতে, এটি শুধু অভিভাবকদের ব্যর্থতা নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের মনোযোগকে যেভাবে প্রভাবিত করছে, সেটিই বড় কারণ।
তিনি বলেন, স্ক্রিন এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা খুব দ্রুত ও তীব্রভাবে শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। ফলে বইয়ের মতো ধীর ও শান্ত অভিজ্ঞতায় শিশুদের আগ্রহ ধরে রাখা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এর অর্থ এই নয় যে শিশুরা বই পছন্দ করে না। বরং স্ক্রিন তাদের কাছে বিনোদনের মানদণ্ড অনেক উঁচু করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্পের বই পড়া শিশুদের আবেগিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গল্পের চরিত্রের মাধ্যমে শিশুরা ভয়, সাহস, উদ্বেগ কিংবা আনন্দের মতো অনুভূতি নিরাপদভাবে উপলব্ধি করতে শেখে। একই সঙ্গে পরিবারে ঘনিষ্ঠতা ও নিরাপত্তাবোধও তৈরি হয়।
ডিয়ার্দ্রে ব্র্যান্ডনার বলেন, শিশুরা বইকে শুধু গল্প হিসেবে মনে রাখে না, বরং বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তগুলোকেও মনে রাখে। এ ধরনের ছোট ছোট অভ্যাসই পরবর্তীতে শিশুর মানসিক স্থিতি ও আত্মবিশ্বাস গঠনে সহায়তা করে।
এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য নতুন গল্পের বই সিরিজ ‘হিচ দ্য হাইলাক্স অ্যান্ড দ্য গ্রেট অজি রোড ট্রিপ’ বেশ আলোচনায় এসেছে। বইটিতে ‘হিচ’ নামের একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। পরিচিত পরিবেশ ও পারিবারিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল থাকায় বইটি শিশুদের সহজেই আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের স্ক্রিন থেকে বইয়ের দিকে ফেরাতে হঠাৎ কঠোরতা নয়, বরং ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাই কার্যকর। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট সময়ে একই জায়গায় বসে গল্প পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটের যৌথ পাঠও শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ দিনের শেষে ঘুমানোর আগের সময়টুকুই শিশুদের জন্য সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি, যেখানে তারা সবচেয়ে বেশি চায় বাবা-মায়ের সান্নিধ্য ও নিরাপত্তা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au