ইসলামের নবী প্রথম কোন পশু কোরবানি করেছিলেন? এই রীতি কীভাবে এলো?
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ইসলাম ধর্মমতে, সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে কোরবানি করার ইতিহাস মানবসভ্যতার শুরু থেকেই প্রচলিত। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী আদমের দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল প্রথমবারের…
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানির মাংস কোথায় ভাগ করা হবে, সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (ঈদের দিন) সকাল আটটার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ‘মোল্লা পক্ষ’ ও ‘মাতুব্বর পক্ষ’ নামে দুটি পক্ষের মধ্যে সামাজিক বিভাজন রয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর।
প্রতি বছরের মতো এবারও গ্রামের বিভিন্ন পরিবার কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতি নেয়। কোরবানির মাংসের একটি অংশ গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টনের জন্য আলাদা রাখা হয়। তবে সেই মাংস গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদে একত্রিত করে ভাগ করা হবে, নাকি প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বণ্টন করবে, তা নিয়ে ঈদের নামাজ শুরুর আগেই দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কথাকাটাকাটির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকলেও একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে রামদা, দা, ঢাল-সরকি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়। এতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় চার থেকে পাঁচটি বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারী ও শিশুরা আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এছাড়া অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গুরুতর আহত কেউ হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর মোল্লা বলেন, ঈদের মতো আনন্দের দিনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈদের নামাজ কিংবা পশু কোরবানি শুরু হওয়ার আগেই মাংস বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অনেকে কোরবানি সম্পন্ন করেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের সামাজিক বিভক্তি ও পারস্পরিক বিরোধের কারণেই ছোট একটি বিষয় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোরবানির মাংস কোন স্থানে রাখা ও বণ্টন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের কারণে ঈদের দিনের আনন্দমুখর পরিবেশ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা উভয় পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au