নিউ সাউথ ওয়েলসে ট্যুর চলাকালে নারীদের হয়রানির অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় তোলপাড়
মেলবোর্ন, ২৮ মে- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের উলংগং শহরে ইতিহাসভিত্তিক একটি নারী-কেন্দ্রিক ট্যুর চলাকালে একদল কিশোর ই-বাইক আরোহীর ঘিরে ধরা ও হয়রানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে…
মেলবোর্ন, ২৮ মে- দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৮৭৭ শিশু। পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে ঢাকায় তিনজন, সিলেটে একজন এবং বরিশালে একজন রয়েছে।
একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮২৬ শিশুর শরীরে। এছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৫১ শিশুর শরীরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মোট ৪৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৮৮ শিশু। অর্থাৎ মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ জনে।
অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৯০৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫৪ হাজার ১৮২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫০ হাজার ৯২৬ শিশু।
এছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ৮৮৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব এবং শিশুদের পুষ্টিহীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তারা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা দেওয়া গেলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে অবহেলা ও দেরির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au