গুরুতর আহত অতিরিক্ত সচিব
মেলবোর্ন, ৩০ মে- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য শামীমুজ্জামান ফিরোজ। শুক্রবার (২৯…
মেলবোর্ন, ২৯ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য রাজ্যজুড়ে একের পর এক হোল্ডিং সেন্টার বা আটক শিবির চালু করেছে প্রশাসন। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে এসব শিবির গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে রাজ্যের ১১টি স্থানে এসব হোল্ডিং সেন্টার চালু রয়েছে এবং সেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক মানুষকে আটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক রাখা হয়েছে বসিরহাট এলাকার বিভিন্ন শিবিরে।
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আটটি পুলিশ জেলা এবং তিনটি প্রশাসনিক জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। পুলিশ জেলা ভিত্তিক যেসব এলাকায় শিবির খোলা হয়েছে সেগুলো হলো বারুইপুর, সুন্দরবন, বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও কৃষ্ণনগর। পাশাপাশি প্রশাসনিক জেলা হিসেবে মালদা, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও পৃথক হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বসিরহাট পুলিশ জেলা। প্রশাসনের দাবি, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সেখানে একটির পরিবর্তে তিনটি হোল্ডিং সেন্টার চালু করতে হয়েছে। অন্য সব জেলায় একটি করে শিবির থাকলেও বসিরহাটে তিনটি আলাদা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে মোট ৩৩৫ জন আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন নারী এবং ৮৮ জন শিশু। অর্থাৎ আটকদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। প্রশাসনের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পুরো পরিবার একসঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করে, যার কারণে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে ১৯ জন আটক রয়েছেন। বাকি অধিকাংশ শিবিরে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ১০ জনের নিচে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষকে এসব শিবিরে রাখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রথমবারের মতো একটি হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। জেলার তপন ব্লকের রামপুর এলাকার কর্মতীর্থ ভবনকে এই কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ভবনটিকে আটক শিবির হিসেবে প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রামপুর কর্মতীর্থ ভবনে আগে ধান কেনাবেচা ও সংরক্ষণের কাজ চলত। ফলে সেখানে প্রচুর ফাঁকা ধানের বস্তা এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সামগ্রী ছিল। বর্তমানে সেগুলো সরিয়ে ভবনের ভেতর খালি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা কতটা কার্যকর রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হোল্ডিং সেন্টারে আটককৃতদের তালিকা। ছবিঃ সংগৃহীত
এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ দিনাজপুরের নতুন এই হোল্ডিং সেন্টারে কাউকে রাখা হয়নি। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এটি তৈরি রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দ্রুত সেখানে আটক ব্যক্তিদের স্থানান্তর করা হবে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক নজরদারি বৃদ্ধির কারণে প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিতে চাইছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ বাড়ায় সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
প্রথমদিকে বালুরঘাটের কিষাণ মান্ডিকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের। কারণ সেখানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষকে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, জাতীয় সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে হওয়ায় যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং নজরদারিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত যাতায়াত এবং নজরদারির সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় এনে বিকল্প স্থান খোঁজা হয়।
পরে রামপুর কর্মতীর্থ ভবনকে উপযুক্ত মনে করে সেটিকেই চূড়ান্ত করা হয়। প্রশাসনের ধারণা, যোগাযোগব্যবস্থা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশ বা প্রশাসনিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রমনিয়ান টি জানিয়েছেন, রামপুর কর্মতীর্থে একসঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে রাখার মতো অবকাঠামো রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে জেলার আরও কয়েকটি স্থানে নতুন হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, আপাতত কেন্দ্রটিকে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই এটি পুরোপুরি চালু করা হবে।
এ বিষয়ে বালুরঘাটের সাংসদ ও ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের প্রথমে এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হবে এবং তাঁরা কোন দিক থেকে এসেছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করবে। প্রাথমিক তদন্তে যাদের বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করা হবে, তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সন্দেহে ধরপাকড়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ এসব হোল্ডিং সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় আটক অবস্থায় রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক তৎপরতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পরিচয়পত্র যাচাই, নজরদারি এবং সন্দেহভাজনদের আটকের ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও নতুন হোল্ডিং সেন্টার খোলা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে অতিরিক্ত অবকাঠামো প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সূত্রঃ এই সময় পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au