গুরুতর আহত অতিরিক্ত সচিব
মেলবোর্ন, ৩০ মে- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য শামীমুজ্জামান ফিরোজ। শুক্রবার (২৯…
মেলবোর্ন, ২৯ মে- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট সংস্কার নিয়ে দেশটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৭ শতাংশ অস্ট্রেলীয় মনে করেন সরকারের নেগেটিভ গিয়ারিং নীতিতে পরিবর্তনের কারণে ভাড়া আরও দ্রুত বাড়বে।
এই জরিপটি পরিচালনা করেছে ‘ফেয়ার গো অস্ট্রেলিয়া’ নামের একটি দল, যারা নিজেদের নির্দলীয় নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচয় দেয়। সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ার কিছু প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা, কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের দ্বারা পরিচালিত, যারা মূলধন লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স) সংস্কারের বিরোধিতা করছেন।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা গেছে। জেনারেশন জেড (জেন-জি) অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং মিলেনিয়ালদের মধ্যে ৪০ শতাংশ মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ভাড়া বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকার দাবি করছে, নেগেটিভ গিয়ারিং এবং ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সে পরিবর্তনের ফলে ভাড়ার ওপর বড় ধরনের চাপ পড়বে না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই নীতিগত পরিবর্তনের কারণে গড়ে ভাড়া সপ্তাহে মাত্র প্রায় ২ ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে খুব অল্প অংশই সরকারের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হয়েছেন। মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, নেগেটিভ গিয়ারিং সীমিত করার ফলে ভাড়া কমতে পারে বা ধীরগতিতে বাড়বে। আর ২৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, এই নীতির ফলে ভাড়ার ওপর তেমন কোনো প্রভাবই পড়বে না।
নেগেটিভ গিয়ারিং হলো অস্ট্রেলিয়ার একটি করনীতি, যেখানে সম্পত্তি থেকে হওয়া ক্ষতিকে কর সুবিধার মাধ্যমে সমন্বয় করা যায়। সরকার এই নীতিতে পরিবর্তন এনে এটি শুধুমাত্র নতুনভাবে নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে সীমিত করতে চাইছে, যাতে আবাসন বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তন হঠাৎ ভাড়াবাজারে চাপ তৈরি করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণ বদলে দিতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভাড়াটিয়াদের ওপর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোতে ইতিমধ্যেই ভাড়া সংকট একটি বড় সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সিডনি, মেলবোর্নসহ বিভিন্ন নগর এলাকায় মধ্যবিত্ত ও তরুণদের জন্য বাসস্থান পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন জরিপের ফলাফল সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। একদিকে সরকার বলছে, সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আবাসন বাজার স্থিতিশীল হবে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এতে স্বল্পমেয়াদে ভাড়ার চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
সূত্রঃ News.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au