গুরুতর আহত অতিরিক্ত সচিব
মেলবোর্ন, ৩০ মে- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য শামীমুজ্জামান ফিরোজ। শুক্রবার (২৯…
মেলবোর্ন, ২৯ মে- দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে প্রথমে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শামীম গাজীর পাটখেত থেকে আরও ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে আটক করা হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে বাদুড়িয়া সংলগ্ন একটি এলাকায় শামীম গাজীর পাটখেতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে পাঁচটি বস্তার ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
টাকাগুলো কীভাবে সেখানে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনায় আর্থিক দুর্নীতি, অবৈধ লেনদেন এবং প্রভাব খাটিয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে বাদুড়িয়া পৌরসভাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। পৌরসভার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে তিনি নিয়মিত ঘুষ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্প, রেশন কার্ড, লক্ষ্মীর ভান্ডার, বেকার ভাতা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ আবাসন প্রকল্পসহ প্রায় সব ধরনের সরকারি সুবিধা পেতে ঘুষ দিতে হতো। অনেকের দাবি, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই করতেন না দীপঙ্কর।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দরিদ্র মানুষের সরকারি সহায়তাকেও ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছিল। মানুষ বাধ্য হয়ে টাকা দিত, কারণ অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা হতো বা আবেদন বাতিল করা হতো।
দীপঙ্করের রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং স্কুটার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আর্থিক অবস্থারও দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তীতে তিনি বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এলাকার মানুষের অভিযোগ, চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাঁর জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। একাধিক সম্পত্তি, নগদ অর্থ এবং সোনার গয়না অর্জনের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের বাইরেও তাঁর কাছে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে। সেগুলোও উদ্ধার করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার পর বাদুড়িয়াজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীপঙ্করের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও দলীয়ভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাদুড়িয়ার একাংশের বাসিন্দা দীপঙ্করকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের দাবিও তুলেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে এবং সরকারি প্রকল্পগুলোকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তির নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au