নিজ এলাকার জন্য রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন আসিফ-হাসনাত
মেলবোর্ন, ৩১ মে- কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক…
মেলবোর্ন, ৩০ মে- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি আবার দেশে ফিরতে পারবেন? সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য, ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত অডিও বার্তাগুলোকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বার্তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর সমর্থকেরা শুরু থেকেই এই বিচার ও রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন এবং এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এক জটিল আইনি ও কূটনৈতিক বাস্তবতা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রমের মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং প্রচলিত আইনি কাঠামোর আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি চাইলে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সে ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনতে কোনো বেআইনি পদ্ধতি নয়, বরং কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ অনুসরণ করতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার মতো উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রত্যর্পণ করা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রশ্ন। ফলে পুরো বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে ভারত সরকার বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবিঃ সংগৃহীত
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সময়সীমা এখনো অনুমাননির্ভর এবং এর পক্ষে দৃশ্যমান কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
এদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। আন্দোলনের সময় প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন সাবেক সরকারপ্রধান কীভাবে দেশে ফিরে আইনি পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমাও ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে তাঁর আইনি বিকল্পের পরিসর আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।
তবে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের কিছু সদস্যের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, শেখ হাসিনা এর আগেই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতা ছাড়ার ঘটনাকে এক অর্থে ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলেও দেখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা ইঙ্গিত দেয় যে শেখ হাসিনার সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্বে ফিরে আসার সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ এবং দলটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর বলে দাবি করা বিভিন্ন অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকের মতে, এসব বার্তার উদ্দেশ্য হলো দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও উৎসাহিত রাখা। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন কারও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে অডিও তৈরি করা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। ফলে এসব অডিওর সত্যতা যাচাই করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ যেন তিনটি বাস্তবতার মধ্যে আটকে রয়েছে। একদিকে নির্বাসিত জীবন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। তিনি দেশে খুব শিগগিরই ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সরকারের কঠোর আইনি অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা যতটা জোরালো, বাস্তবতার মাটিতে ততটাই অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ফলে এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্যের চেয়ে জল্পনা-কল্পনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ এখনো অমীমাংসিত এবং সময়ই বলে দেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার পরবর্তী গন্তব্য কোথায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au