এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন সুদানে জন্ম নেওয়া তরুণ নেতা মোহাম্মদ সেমরা। মেলবোর্নের পশ্চিমাঞ্চলের মারিবিরনং সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সাব-সাহারান আফ্রিকান বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে অর্জিত এই সাফল্য তাকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, ত্যাগ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। তিন বছর বয়সে মা সামিরা ও পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে সুদান ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন মোহাম্মদ। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাবা, যিনি সুদানের পূর্বাঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিবারটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়।
মেলবোর্নে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদের শৈশব সহজ ছিল না। ছোটবেলায় তিনি তীব্র তোতলামির সমস্যায় ভুগতেন। কথা বলার সময় শব্দ আটকে যেত, মাথা কেঁপে উঠত। এই কারণে অনেক সময় তিনি নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন। কিন্তু তার স্কুলের শিক্ষক লিয়া হোয়াইট তার মেধা ও সম্ভাবনা বুঝতে পেরে বিশেষ স্পিচ থেরাপিতে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই থেরাপিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি স্কুলের বিতর্ক দলে যোগ দেন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে শুরু করেন। একসময় স্কুল ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। তবে নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখার সময়ও তাকে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এক সহপাঠী তাকে বলেছিল, ‘নেতৃত্ব দেওয়া তো সাদা চামড়ার মানুষের বিষয়।’ সেই মন্তব্য তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল এবং নিজেকে প্রমাণ করার দৃঢ় সংকল্প তৈরি করেছিল।
মোহাম্মদ সেমরা বলেন, নেতৃত্ব কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ, ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর একচেটিয়া বিষয় নয়। সুযোগ ও যোগ্যতা থাকলে যে কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে।
মেয়র হওয়ার পরও তাকে নানা ধরনের বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এসব সমালোচনায় ভেঙে না পড়ে বরং আরও দৃঢ় হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘কিছু মানুষ একজন কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিমকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে অভ্যস্ত নয়। কিন্তু আমার দায়িত্ব হলো পুরো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করা এবং সবার আস্থা অর্জন করা।’
মারিবিরনং সিটিতে ৮০টিরও বেশি দেশের মানুষের বসবাস। বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ববোধ করেন তিনি। তার মতে, অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবার থেকে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের জন্য তার এই সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
শৈশবে সুদানে কাটানো একটি অভিজ্ঞতা আজও তার জীবনের অন্যতম শিক্ষা হয়ে রয়েছে। ১০ বছর বয়সে পরিবারের জন্য পানি আনতে তাকে মরুভূমির মধ্যে কয়েক ঘণ্টার পথ গাধার পিঠে চড়ে অতিক্রম করতে হয়েছিল। ফেরার পথে কাঁটাযুক্ত একটি গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় মুখে আঘাত পেলেও তিনি গাধা থেকে নামেননি, কারণ তাতে পানিভর্তি পাত্র পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই ঘটনা তাকে শিখিয়েছিল যে অন্যের কল্যাণে কখনো কখনো নিজের কষ্ট মেনে নিতে হয়।
বর্তমানে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে কাজ করছেন মোহাম্মদ সেমরা। তার জীবনের গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং এটি শরণার্থী, অভিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য আশা, সাহস ও সম্ভাবনার এক শক্তিশালী প্রতীক।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au