হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি এবং দাবিটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে তারা জানতে পেরেছে যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পদত্যাগপত্রে প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরকার এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর অভ্যন্তরের কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো প্রভাব বিস্তার করেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে তার পদত্যাগ অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কিংবা তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের সরকার এবং সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে যে টানাপোড়েনের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছিল, এই পদত্যাগের গুঞ্জন তারই ধারাবাহিকতা হতে পারে। এর আগে ইরান ইন্টারন্যাশনাল একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে আইআরজিসি ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত করে ফেলেছে এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে পেজেশকিয়ানের প্রশাসন কার্যত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, মন্ত্রিসভার সংস্কার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমও এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পটভূমিতে রয়েছে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনাও। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল। এরপর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব মূলত আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এর পর থেকেই ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতার ভারসাম্য, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনো ধরনের বিভেদের কথা স্বীকার করেনি, তবুও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সরকারি কোনো ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি গুঞ্জন ও অনানুষ্ঠানিক সূত্রনির্ভর দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au