হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের আবহে শেষ হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। দেশটির বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রকাশ্য রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক ফলাফল ও জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছেন না। ফলে কলম্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২১ জুন দ্বিতীয় দফা বা রান-অফ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই ভোটেই নির্ধারিত হবে আগামী চার বছরের জন্য দেশটির নতুন নেতৃত্ব।
নির্বাচনকে ঘিরে মাদক পাচার দমন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা, অর্থনৈতিক নীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। বিশেষ করে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যতে সেই নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে কি না, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
কলম্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় পেত্রো নিজে নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বামপন্থী নেতা ইভান সেপেদা-কে। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা সেপেদা বর্তমান সরকারের ‘পূর্ণাঙ্গ শান্তি’ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, মাদক বাণিজ্য ও সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা। পেত্রো প্রশাসন বিশ্বাস করে, শুধুমাত্র সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
অন্যদিকে নির্বাচনে সেপেদার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ডানপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা এবং রক্ষণশীল রাজনীতিক পালোমা ভ্যালেন্সিয়া।
ব্যবসায়ী ও আইনজীবী এসপ্রিয়েল্লা নিজেকে ‘বাঘ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অপরাধী চক্র ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্প ও হাভিয়ের মিলেই-এর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান।
অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়ার প্রচারণা নতুন গতি পায় তার রাজনৈতিক জোটের আগের প্রার্থী মিগেল উরিবে গুলিতে নিহত হওয়ার পর। তিনি মধ্যপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ডানপন্থী দুই প্রার্থীই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কলম্বিয়ার ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, মাদক চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অপরিহার্য।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৪ লাখ ৮ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভোটের আগে এবং ভোটের দিন সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তরাঞ্চলীয় সিজার অঞ্চলে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। ওই হামলায় একজন সেনা সদস্য আহত হন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে একটি ভোটকেন্দ্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়, বরং কলম্বিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও একটি বড় পরীক্ষা। একদিকে রয়েছে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার বামপন্থী নীতি, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে ডানপন্থী অবস্থান।
এখন সবার নজর আগামী ২১ জুনের সম্ভাব্য রান-অফ নির্বাচনের দিকে। ওই ভোটেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে লাতিন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ কলম্বিয়া আগামী বছরগুলোতে কোন রাজনৈতিক পথ বেছে নেবে এবং মাদকবিরোধী নীতি, নিরাপত্তা কৌশল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের অবস্থান গ্রহণ করবে।
সূত্র : বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au