হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীনের সীমান্তঘেঁষা একটি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। বিস্ফোরণে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৩১ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে শান রাজ্যের নামখাম এলাকার কং তাত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শ্বে ফি মিয়ে নিউজ এজেন্সি নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫৫ জন বলে জানিয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে জড়িত কয়েকজনের দাবি, মৃতের সংখ্যা ৫৯ জন পর্যন্ত হতে পারে।
স্থানীয় প্রভাবশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত করে রাখা বিস্ফোরক পদার্থের আকস্মিক বিস্ফোরণ থেকেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এক বিবৃতিতে টিএনএলএ জানায়, বিস্ফোরণের ফলে বহু গ্রামবাসী নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংগঠনটি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে।
টিএনএলএ আরও বলেছে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংগঠনটির দাবি, বিস্ফোরকগুলো তাদের অর্থনৈতিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেগুলো খনি ও পাথর খননের কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কারণে এলাকায় বিশাল একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পোড়া গাছপালা, ভাঙা ঘরবাড়ি এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে এখনও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে অনেকেই প্রথমে এটিকে বিমান হামলা বলে মনে করেছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একজন জরুরি সেবাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিস্ফোরণে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর দেশটি কার্যত গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন একযোগে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
টিএনএলএ দেশটির অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন। তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং চীনের সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ সংগ্রহের জন্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীল। জেড, রুবি, স্বর্ণ ও অন্যান্য খনিজসম্পদসমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিত খনি পরিচালনার কারণে এসব এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা, খনি ধস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বহু জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই এসব গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে।
টিএনএলএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর অন্যতম সদস্য। এই জোটে আরও রয়েছে আরাকান আর্মি (এএ) এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ)। ২০২৪ সালের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় এই জোট মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
তবে একই বছরের জুন মাসে টিএনএলএ আবারও শান রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী মান্দালয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে বিদ্রোহীরা উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুবি খনির শহর মোগক দখল করে নেয়। যদিও গত বছরের অক্টোবরে চীনের মধ্যস্থতায় মোগক থেকে সরে যেতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছিল টিএনএলএ।
এমন এক প্রেক্ষাপটে সংঘাতপীড়িত এই অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা ও উদ্ধারকর্মীরা।
সূত্রঃ ডন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au