হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ‘ব্যাড টাচ’ বা যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশের তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘রানী স্টোর’ নামের একটি মুদি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি শিশুর কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, দোকানে কোমল পানীয় কিনতে আসা এক শিশুকে পণ্য দিতে কিছুটা দেরি হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটির সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে একদল লোক দোকানে হামলা চালায়।
আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস জানান, দোকানের ফ্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটিকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলেন তিনি। এ ঘটনাকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়। কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা দোকানে এসে অভিযোগ তোলেন এবং পরে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে হামলা চালানো হয়।
তার ছেলে রুবেল দাস অভিযোগ করেন, প্রথমে কয়েকজন এসে দোকানে হট্টগোল সৃষ্টি করে। পরে সংঘবদ্ধভাবে আরও লোকজন এসে তার বাবাকে মারধর করে। হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি প্রায় তিন লাখ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর শাহপরান থানায় রুবেল দাস বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন শিল্পী বেগম, আহম্মদ হোসেন আরিফ, আকাশ আহমেদ, রোজী আক্তার, রোকেয়া আক্তার, রফিকুল ইসলাম মিন্টু, শোয়েব, নাদিম আহমদ, ইমন, কামাল, সৈয়দ আবু বক্কর, দেলোয়ার ও অন্তর।
ঘটনার পরপরই পুলিশ দোকানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে তদন্তকারীরা অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পাননি। পুলিশ বলছে, যৌন হয়রানি বা শ্লীলতাহানির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, এটি মব সহিংসতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে যৌন হয়রানির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে জনতাকে উসকে দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাকি টাকা বা পণ্য না দেওয়াকে কেন্দ্র করেও বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর আহত ব্যবসায়ীকে দেখতে হাসপাতালে যান সিলেট জেলা ও মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীও হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, একটি শিশুকে পণ্য দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে মিথ্যা শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছড়িয়ে একজন নিরীহ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়লে আরও লোকজন এসে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন যে সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি অনুযায়ী, পূর্বের কিছু আর্থিক লেনদেন বা বাকি পণ্য না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়ে থাকতে পারে। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন গুজব ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংঘটিত মব সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au