হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন দীপেন দেওয়ান। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারায় তিনি মন্ত্রিসভার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষে অফিস খোলার প্রথম দিনেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে দীপেন দেওয়ান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, যা তার পক্ষে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকে কঠিন করে তুলেছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।”
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভকারী সংসদ সদস্যদের একজন ছিলেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে দীপেন দেওয়ান বিচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজ পদ থেকে চাকরি ছেড়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন।
২০১০ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
দীপেন দেওয়ানের পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সূত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার বিদায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au