হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনের উত্থান। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দলটি দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি লেবার পার্টি ও কোয়ালিশনকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত হওয়ার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবিরের নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিজেদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন লিবারেল পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা জেমস প্যাটারসন।
সোমবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির ‘সেভেন থার্টি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছায়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস প্যাটারসন বলেন, দল হিসেবে লিবারেল পার্টির সামনে এখন ‘গুরুতর কাজ’ রয়েছে। তিনি বলেন, বহু ঐতিহ্যগত সমর্থক দলের ওপর আস্থা হারিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাস পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় ধরে ঐক্য, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হবে।
জেমস প্যাটারসন বলেন, “আমরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছি। হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের ধারাবাহিকভাবে সক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।”
ওয়ান নেশনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি এখন লিবারেল পার্টির ভোটব্যাংক ও আসনের জন্য সরাসরি প্রতিযোগিতা করছে। ফলে তাদের নীতি, কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে আরও গভীর জনপর্যালোচনা হওয়া স্বাভাবিক।
এ সময় ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের সমালোচনাও করেন প্যাটারসন। তিনি একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে দাবি করেন, গত এক দশকে সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ বাজেট ও জবাবদিহিমূলক শুনানির ৮৮ শতাংশে অনুপস্থিত ছিলেন পলিন হ্যানসন। তাঁর মতে, একজন বিরোধী বা স্বতন্ত্র সিনেটরের জন্য এসব শুনানিতে অংশগ্রহণ করা মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
এদিকে নতুনভাবে দায়িত্ব নেওয়া লিবারেল পার্টির সভাপতি টনি অ্যাবটও রক্ষণশীল ভোটারদের সমর্থন পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, দলের ঐতিহ্যগত ভোটারদের একটি বড় অংশ বর্তমানে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে, যা লিবারেল পার্টির জন্য সতর্কবার্তা।
অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ, রেডব্রিজ গ্রুপ এবং অ্যাকসেন্ট রিসার্চের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোট সমর্থন বেড়ে ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সমর্থন ২৮ শতাংশ এবং কোয়ালিশনের সমর্থন ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, করনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের হতাশা ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে।
বিশেষ করে পলিন হ্যানসনের নেতৃত্বাধীন ওয়ান নেশন এখন আর কেবল একটি প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি নয়; বরং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যা দেশটির দুই প্রধান দলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au