ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
মেলবোর্ন, ৫ জুন- দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল এবং ইরান উভয়ের প্রতিই কড়া বার্তা দিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তিনি একদিকে বেসামরিক…
মেলবোর্ন, ২ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় লাখো শ্রমিক ও কর্মচারীর জন্য সুখবর এসেছে। দেশটির স্বাধীন শ্রম কমিশন ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন ন্যূনতম মজুরি এবং অ্যাওয়ার্ডভুক্ত কর্মীদের বেতন ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আধুনিক অ্যাওয়ার্ডের আওতায় থাকা কর্মীরা ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাবেন। এর ফলে দেশজুড়ে প্রায় ২৮ লাখ কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন, যা অস্ট্রেলিয়ার মোট শ্রমশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ।
একই সঙ্গে জাতীয় ন্যূনতম মজুরিও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি ২৪ দশমিক ৯৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থাকলেও তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ দশমিক ৪৪ ডলারে উন্নীত হবে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ন্যূনতম মজুরি ৯৪৮ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছাবে।
ন্যূনতম মজুরির এই হার মূলত সেইসব কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা কোনো আধুনিক অ্যাওয়ার্ড বা এন্টারপ্রাইজ চুক্তির আওতায় নেই। অন্যদিকে অ্যাওয়ার্ডভুক্ত কর্মীদের জন্য সংশ্লিষ্ট খাতভেদে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের সভাপতি অ্যাডাম হ্যাচার বলেছেন, চলতি বছরের মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত জটিল। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে বিদ্যমান নানা অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা কমিশনের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এ ধরনের বৈশ্বিক সংকটকে তিনি একটি ‘অনিশ্চিত ঝুঁকি’ বা ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে।
এদিকে বিরোধী জোট সরকার ঘোষিত বেতন বৃদ্ধিকে সমর্থন জানালেও এর প্রয়োজনীয়তার জন্য ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করেছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা জেন হিউম এক বিবৃতিতে বলেন, মূল্যস্ফীতি যদি বেতন বৃদ্ধির সুফলকে গ্রাস করে ফেলে, তাহলে কেবল মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে না।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয়দের জীবনমান উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যা প্রতি বছর ন্যূনতম মজুরি ও অ্যাওয়ার্ডভিত্তিক বেতন পর্যালোচনা করে। তবে মজুরি নির্ধারণের আগে সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা হয়।
ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার কমিশনের কাছে একটি ‘টেকসই’ বা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে মত দিলেও নির্দিষ্ট কোনো হার প্রস্তাব করেনি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নস (এসিটিইউ) প্রায় ৩০ লাখ অ্যাওয়ার্ডভুক্ত কর্মীর জন্য ৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিল। শ্রমিক সংগঠনটির যুক্তি ছিল, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কর্মীদের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন।
এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের একটি ‘মধ্যম পর্যায়ের’ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল।
দুই পক্ষের দাবি-দাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রেখে শেষ পর্যন্ত ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করবে, অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝাও তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখবে।
আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ার লাখো নিম্ন ও মধ্য আয়ের কর্মীর আয় বৃদ্ধি পাবে। তবে মূল্যস্ফীতির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বাস্তবে এই বেতন বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয়ের কতটা চাপ কমাতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au