নড়াইলে বাড়ির সামনে থেকে হিন্দু শিক্ষিকার গলার চেইন ছিনতাই
নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের পুরো ঘটনা ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি…
মেলবোর্ন, ২ জুন- পাবনার হিমায়েতপুরে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচির একদিন আগেই সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের খবরে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, হিমায়েতপুরে অবস্থিত মানসিক হাসপাতাল চত্বরে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নির্মিত বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় রয়েছে। সম্প্রতি এসব স্থাপনা অপসারণ বা ভূমিস্যাৎ করার সম্ভাব্য উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হলে দেশে-বিদেশে বসবাসরত ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবিতে আগামী ৩ জুন পাবনায় একটি বৃহৎ মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল সৎসঙ্গ বাংলাদেশ।
গত ২৯ মে সংগঠনটির সম্পাদক শ্রী ধৃতব্রত আদিত্য স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, হিমায়েতপুরের এসব স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত ও অনুসারীর কাছে গভীর আবেগ, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক স্মৃতির অংশ। সে কারণে এগুলো সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়েছিল সংগঠনটি।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, তারা দেশের আইন ও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কোনো ধরনের সরকারবিরোধী কর্মসূচি বা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। মানববন্ধন কর্মসূচিকেও তারা প্রতিবাদ নয়, বরং সরকারের কাছে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক আবেদন হিসেবে উল্লেখ করেছিল। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের স্লোগান, উত্তেজনা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

সৎসঙ্গ বিশ্ব বিজ্ঞানকেন্দ্র । ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে মানববন্ধনের নির্ধারিত তারিখের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসায় সৎসঙ্গী ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, হিমায়েতপুরের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্পদ নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো সংরক্ষিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
ভক্ত-অনুরাগীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সংরক্ষণ উদ্যোগের আওতায় ভগ্নপ্রায় স্থাপনাগুলোর যথাযথ সংস্কার, নথিভুক্তকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কোটি কোটি ভক্তের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে।
সৎসঙ্গ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মানববন্ধন কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তবে সরকারের এই উদ্যোগকে তারা ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আরো পড়ুন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au