ইরানি হামলায় সব ফ্লাইট বাতিল করল ইজিপ্টএয়ার
মেলবোর্ন, ৪ জুন- কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে মিসরের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা…
মেলবোর্ন, ৩ জুন- যশোরের বেনাপোল সীমান্তে একদল মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে বিপুলসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। বর্তমানে এসব ব্যক্তির একটি অংশ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড বা শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে মানুষের উপস্থিতির সরাসরি দৃশ্য দেখা না গেলেও সেখানে তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তের ভারতীয় অংশে গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাদের অবস্থান করানো হয়েছে।
রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল আলম খান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও সীমান্ত নজরদারির মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে সীমান্তের ওপারে প্রায় ১০০ জনকে জড়ো করা হয়েছিল। তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পর তারা নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয়।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে কাউকে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জিরো লাইন অতিক্রমের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।”
বিজিবি সূত্র জানায়, গত রোববার গভীর রাতে যশোরের বেনাপোলের রঘুনাথপুর ও সাদীপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রথমে প্রায় ১৫ জনের একটি দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। এর পরদিন সোমবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবির দাবি, বৈঠকে বিএসএফ এমন কোনো উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় কর্মকর্তারাও বলছেন, এটি ছিল একটি নিয়মিত সীমান্ত বৈঠক এবং কোনো ধরনের পুশ ইন বা জোরপূর্বক লোক পাঠানোর ঘটনা ঘটেনি।
তবে সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের বক্তব্য এবং বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই সীমান্তের ওপারে অস্বাভাবিক লোকসমাগম দেখা যাচ্ছিল। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সীমান্ত এলাকায় আসা নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, সীমান্তে আটকে রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে তার বাবাও রয়েছেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর তার বাবা আর দেশে ফিরতে পারেননি। সম্প্রতি তাকে অন্যান্যদের সঙ্গে ধরে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা ভিডিও কলে জানিয়েছেন যে তাদের দলে প্রায় ৬০ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ কর্মসংস্থানের কারণে কিংবা অন্য কারণে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এখন তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদ প্রকাশের পর সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে যশোর, সাতক্ষীরা ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ভারতের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা পায়নি। তিনি বলেন, “ভারত যদি জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে কোনো ব্যক্তির তালিকা দেয়, তাহলে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো তালিকা আমাদের হাতে আসেনি।”
তিনি আরও বলেন, “বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা কোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন বা পুশ ব্যাককে সমর্থন করি না এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একই সময়ে সাতক্ষীরা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের হাকিমপুর এলাকায়ও কয়েকশ কথিত বাংলাদেশি নাগরিক জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সীমান্তে অবস্থান করতে না দিয়ে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বেনাপোল সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা এই অঞ্চলে খুব একটা দেখা যায় না। কারণ দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল হওয়ায় এখানে দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর। সাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, আগে সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে যাতায়াতের ঘটনা ঘটলেও বেনাপোল এলাকায় সংগঠিতভাবে লোকজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা বিরল।
তবে সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। গত এক বছরে খাগড়াছড়ি, কুড়িগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ভারত যাকে ‘পুশ ব্যাক’ হিসেবে উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সেটিকে ‘পুশ ইন’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণ অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকেই এ ধরনের ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কথিত অবৈধ বাংলাদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের জন্য বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বেনাপোল সীমান্তের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সীমান্তে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au