ইরানি হামলায় সব ফ্লাইট বাতিল করল ইজিপ্টএয়ার
মেলবোর্ন, ৪ জুন- কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে মিসরের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা…
মেলবোর্ন, ৩ জুন- দেশের গ্রাহকদের জন্য আবারও বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন পর্যায়ে একযোগে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ দাম চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুতের দাম সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ইউনিটে গড় সঞ্চালন চার্জ ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এ সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের চাপ ছিল না। বাজেট ঘোষণার বিষয়টি মাথায় রেখেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর কী ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তিভিত্তিক দামে বিদ্যুৎ কিনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এরপর সেই বিদ্যুৎ সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য মেটাতে বিপিডিবি সরকার থেকে ভর্তুকি পেয়ে থাকে। তবে বিতরণ কোম্পানিগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না এবং তারা খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বিপিডিবি বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছিল। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা।
এর আগে গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতসহ সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যয় বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au