মমতাকে বিধানসভায় নিতে আসন ছাড়ার প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের
মেলবোর্ন, ৫ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা ও আম-জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা…
মেলবোর্ন, ৫ জুন- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ স্বীকার করেছেন, দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাঁর সরকারের বিতর্কিত কর সংস্কার উদ্যোগের পেছনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে মূলধনী মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স) এবং নেতিবাচক গিয়ারিং (নেগেটিভ গিয়ারিং) সংক্রান্ত কর-সুবিধা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সিডনিতে স্কাই নিউজ আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আলবানিজ সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক তেলের মূল্য অস্থিরতা, ব্যবসায়িক বিনিয়োগের স্থবিরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিতে বৈশ্বিক রূপান্তর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় তিনি সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত কর সংস্কার উদ্যোগেরও পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ১৯৯৯ সালে তৎকালীন হাওয়ার্ড সরকারের মূলধনী মুনাফা কর নীতির পরিবর্তনের ফলে আবাসন খাত বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দ্রুত বিস্তৃত হয়। এতে আবাসন বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বাজেটের পদক্ষেপগুলো সেই ভারসাম্যহীনতা দূর করার পাশাপাশি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
আলবানিজ বলেন, “আমরা এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত কর সুবিধার ওপর নয়, বরং প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে নেওয়া হবে।”
তবে মূল বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, ওয়ান নেশনের উত্থান এবং ভোটারদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সরকারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বাজেট-পরবর্তী জরিপে আলবানিজ ছাড়িয়ে এগিয়ে গেল ওয়ান নেশন। ছবিঃ সংগৃহীত
তিনি বলেন, “মানুষ যদি মনে করে অর্থনীতি তাদের জন্য কাজ করছে না, তারা কঠোর পরিশ্রম করেও যদি সুযোগ না পায়, তাহলে তারা সহজ ও ক্ষোভনির্ভর রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়বে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই আমরা পরিবর্তনের পথে এগিয়েছি।”
অ্যালবানিজের মতে, সরকার যদি সময়োপযোগী সংস্কার না আনে, তাহলে জনমত দ্রুত অন্য রাজনৈতিক শক্তির দিকে সরে যেতে পারে। তিনি বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।”
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছরে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছর আগে দলটির সমর্থন ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দলটি ভোটের হিসেবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছে। রেডব্রিজ পরিচালিত এক জরিপে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোট সমর্থন ৩০ শতাংশ এবং লেবার পার্টির সমর্থন ২৮ শতাংশ পাওয়া গেছে।

পলিন হ্যানসন । ছবি সংগৃহীত
সরকার দাবি করেছিল, নতুন কর সংস্কার তরুণদের জন্য আবাসন বাজারে প্রবেশ সহজ করবে। তবে জরিপে দেখা গেছে, সহস্রাব্দ প্রজন্মের (মিলেনিয়াল) অনেক ভোটার লেবার বা গ্রিনসের পরিবর্তে ওয়ান নেশনের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে জেন-জেড প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ এই নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে অবগতই নন।
আলবানিজ বলেন, তিনি ডানপন্থী কিংবা বামপন্থী যেকোনো ধরনের জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির সমালোচক। তাঁর ভাষায়, “এগুলো হলো সমাধানহীন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও হতাশার বাস্তব কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেকেই মনে করেন অর্থনীতি তাদের জন্য কাজ করছে না। তারা অর্থনীতির জন্য কাজ করতে চায় না, বরং চায় অর্থনীতি তাদের জন্য কাজ করুক।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ওয়ান নেশন নেতিবাচক গিয়ারিং বিষয়ে যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় বিশদ বিশ্লেষণ করেছে। দলটির প্রস্তাব ছিল, নতুন বাড়ি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুটি সম্পত্তি পর্যন্ত নেতিবাচক গিয়ারিং সুবিধা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে এ ধরনের সীমা নির্ধারণের কথা বলেছিল তারা।
তবে সরকারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যবস্থা বাজারে নতুন ধরনের বিকৃতি তৈরি করতে পারে। কারণ একাধিক সম্পত্তির মালিকেরা তাদের ঋণ সবচেয়ে মূল্যবান সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত করে কর-সুবিধা আরও বাড়িয়ে নিতে পারেন।
আলবানিজ বলেন, “এই কারণেই আমরা এক, দুই বা পাঁচটি বাড়ির সীমা নির্ধারণের মডেল গ্রহণ করিনি। আমরা এমন একটি নীতি বেছে নিয়েছি, যা বাজারের বিকৃতি কমাবে এবং একই সঙ্গে আবাসনের সরবরাহ বাড়াবে।”
সরকারের প্রস্তাবিত কর সংস্কার এখন সিনেটের একটি তদন্ত কমিটিতে পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলবানিজ সরকার মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়াতে এই সংস্কার অপরিহার্য।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au