হেবরনে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশু
মেলবোর্ন, ৬ জুন- অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও…
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ভারতের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নতুন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে। রাজধানী দিল্লির সংসদ ভবনের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে শনিবার অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে হাজারো তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
সকালের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত সমর্থকদের ভিড়ে যন্তর মন্তর এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফিরে তিনি সরাসরি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যন্তর মন্তরে চলে আসেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে সমাবেশস্থলে দেখা যায়। সাদা টি-শার্ট, কালো জ্যাকেট ও কালো টুপি পরিহিত অভিজিতের হাতে ছিল ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতি ভীমরাও আম্বেদকর-এর আত্মজীবনী।
তাকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উপস্থিত অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন।
সমাবেশের আগে আন্দোলনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
তেলাপোকা প্রতীকধারী এই নতুন সংগঠনের সমাবেশ বন্ধ করার দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় দাবি করা হয়, দিল্লির বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রো স্টেশন ও জাতীয় মহাসড়কের প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকানো হোক।
তবে শুক্রবার ওই আবেদনের জরুরি শুনানি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় আদালত। পরে দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
যদিও শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং জাতীয় মহাসড়কগুলোতে বিশেষ নজরদারি শুরু করে পুলিশ।

ভারতে আলোড়ন তুলেছে জেন-জিদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। ছবিঃ সংগৃহীত
‘তেলাপোকা ভয় পায় না, মরেও না’
সমাবেশস্থলের একপাশে ছোট একটি মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। মঞ্চের পেছনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতীকের নিচে ইংরেজিতে লেখা ছিল “Peaceful Protest” বা ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’।
মঞ্চে উঠে অভিজিৎ দীপকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
তার ভাষায়, “তেলাপোকা ভয় পায় না, মরেও না।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আন্দোলনের মূল দাবিগুলো বিবেচনায় না নিয়ে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারা আন্দোলন পরিচালনা করছে, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
অভিজিতের মতে, সরকারের উচিত ছিল শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
সমাবেশজুড়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘জয় ভীম’, ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘গোদি মিডিয়া চোর হ্যায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “পেপার লিক সরকার কতবার আসবে?”
সমাবেশে অংশ নেওয়া তরুণদের অনেকেই ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার চালান, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সমাবেশের মধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা যায়, সিজেপির পরবর্তী বড় সমাবেশ আগামী ২৩ জুন দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের দাবি, শনিবারের সমাবেশ তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বড় হয়েছে এবং আগামী কর্মসূচিতে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
সাধারণ মানুষেরও অংশগ্রহণ
শুধু শিক্ষার্থী বা তরুণরাই নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় সমাবেশে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে গণমাধ্যমকে জানান, তারা এই আন্দোলনকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয় হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে এবং যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সমাবেশ চলাকালে একটি ছোটখাটো উত্তেজনাকর ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তার হাতে একটি পোকামারার স্প্রে ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছিলেন। তাকে বলতে শোনা যায়, সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর সমর্থক।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা
সমাবেশ চলাকালে আরেকটি দল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তাদের সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। সমাবেশস্থলের চারপাশে দিল্লি পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট মোতায়েন ছিল এবং তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ক্ষমতাসীন বিজেপির কয়েকজন নেতা ও সমর্থক এই আন্দোলনের সমালোচনা করেন।
তাদের কেউ কেউ আন্দোলনকারীদের পাকিস্তানপন্থী বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয় যে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস এই আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে আন্দোলনের আয়োজকরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সমাবেশের আগেই অভিজিৎ দীপকে তার সমর্থকদের উদ্দেশে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি সবাইকে বিমানবন্দরে ভিড় না করার অনুরোধ জানান এবং কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোনো উসকানিতে সাড়া দেওয়া যাবে না। সমাবেশে কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি এবং বই হাতে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
শনিবারের সমাবেশে সেই নির্দেশনার প্রতিফলনও দেখা যায়। অনেক বিক্ষোভকারীর হাতে বই, সংবিধানের কপি এবং জাতীয় পতাকা দেখা যায়। আন্দোলনের নেতারা দাবি করেছেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবিতে তরুণ প্রজন্মের নতুন ধরনের নাগরিক আন্দোলনের সূচনা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au