নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের নুসা শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উভয় নেতা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে ‘অস্থির ও দ্রুত পরিবর্তনশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, বর্তমানে বিশ্ব এমন এক সময় পার করছে, যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বহু পুরোনো বাস্তবতা বদলে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়ছে। এমন সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড একসঙ্গে কাজ করলে শুধু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই নয়, নতুন সুযোগও সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আমাদের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
যদিও সংবাদ সম্মেলনে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি আলোচনার অন্যতম প্রেক্ষাপট ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যনীতির প্রভাবও দুই দেশের অর্থনীতিতে অনুভূত হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও সুসংহত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
লাক্সন বলেন, “আমরা এমন এক বিশ্বে প্রবেশ করছি যেখানে নিয়মের চেয়ে শক্তির প্রভাব বাড়ছে, অর্থনীতির পাশাপাশি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং দক্ষতার পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বছরে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা বাণিজ্য হয়। উভয় নেতা মনে করেন, পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং তা দুই দেশের জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের পথ তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে চীনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সম্প্রতি তাইওয়ান সফরের কারণে নিউজিল্যান্ডের চার সংসদ সদস্যের ওপর চীন এক বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান ক্রিস্টোফার লাক্সন।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভ্রমণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। তারা কোথায় যাবেন বা কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”
সব মিলিয়ে বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au