রাত পোহালেই বিসিবি নির্বাচন
মেলবোর্ন, ৭ জুন- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল রোববার। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের মারে ব্রিজ শহরের বাসিন্দা ইয়াসমিন জাম্মুল নিজের প্রয়োজন থেকেই শুরু করেছিলেন একটি ছোট উদ্যোগ। সেই উদ্যোগই এখন রূপ নিয়েছে মুসলিম নারীদের জন্য শালীন, আধুনিক ও আরামদায়ক অ্যাকটিভওয়্যার ব্র্যান্ডে। তিন সন্তানের এই জননী মনে করেন, পোশাক শুধু শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়, বরং এটি নারীদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাচ্ছন্দ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তান জন্মের পর নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত জিমে যাওয়া শুরু করেন ইয়াসমিন। কিন্তু একজন মুসলিম নারী হিসেবে ব্যায়ামের সময় পরার মতো শালীন, ফ্যাশনেবল ও আরামদায়ক পোশাক খুঁজে পেতে তিনি বারবার হতাশ হন।
ইয়াসমিন জানান, জিমে যাওয়ার শুরুতে তিনি নিজেকে অনেকটাই অস্বস্তিকর মনে করতেন। প্রয়োজনীয় পোশাক না পেয়ে বড় আকারের টি-শার্ট পরে ব্যায়াম করতেন, যা তাকে আরও অনিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসহীন করে তুলত। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের প্রয়োজন মেটাতে নিজেই নতুন ধরনের পোশাক তৈরি করবেন।
দীর্ঘদিন চিন্তাভাবনা ও গবেষণার পর এক রাতে নিজের স্কেচবুকে প্রথম নকশা আঁকেন তিনি। সেই নকশায় আধুনিক অ্যাকটিভওয়্যারের সঙ্গে শালীনতার সমন্বয় ঘটানো হয়। পোশাকে রাখা হয় লম্বা হাতা, তুলনামূলক বড় দৈর্ঘ্যের টপ, আকর্ষণীয় জিপার এবং আধুনিক ডিজাইনের নানা উপাদান।
ইয়াসমিন বলেন, তিনি এমন পোশাক তৈরি করতে চেয়েছিলেন যা নারীদের প্রয়োজনীয় শালীনতা নিশ্চিত করবে, আবার একই সঙ্গে তাদের আত্মবিশ্বাসী ও সুন্দর অনুভব করাবে।
ফ্যাশন শিল্পে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইউটিউব ভিডিও, অনলাইন গবেষণা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কনটেন্ট দেখে ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখে নেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সরবরাহকারীর সঙ্গে কাজ করে নিজের ডিজাইন বাস্তবায়ন করেন এবং বাজারে নিয়ে আসেন নতুন পণ্য।
পোশাক বাজারে আসার পর ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পান ইয়াসমিন। অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, এমন ধরনের শালীন কিন্তু আধুনিক অ্যাকটিভওয়্যার তারা আগে খুব কমই দেখেছেন। পোশাকের মান, আরাম এবং নকশাও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জিমে নিজের তৈরি পোশাক পরে গেলে অনেক নারী তার কাছে জানতে চান, এই পোশাক কি শুধু মুসলিম নারীদের জন্য, নাকি অন্যরাও ব্যবহার করতে পারবেন। জবাবে ইয়াসমিন বলেন, তার এই পোশাক সব নারীর জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন মা, একজন মুসলিম নারী এবং অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বেড়ে ওঠা মানুষ হিসেবে তিনি বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত মনে করেন। সেই ভাবনা থেকেই এমন একটি পোশাক তৈরি করেছেন, যা বিভিন্ন বয়স, সংস্কৃতি ও প্রয়োজনের নারীদের জন্য উপযোগী।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্সটাইলস বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও প্রভাষক জুলিয়ানা লুনা মোরা বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ফ্যাশন শিল্প আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আরামদায়ক, ঢিলেঢালা এবং বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন পোশাকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।
তার মতে, শুধু অ্যাকটিভওয়্যার নয়, সামগ্রিক ফ্যাশন জগতেও শালীন পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশের বাস্তবতা প্রতিফলিত করতে ফ্যাশন শিল্পে আরও বেশি বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ বিষয়ে পড়াশোনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইয়াসমিন জাম্মুল। তিনি মনে করেন, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে তিনি বলেন, তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার তিন কন্যা। তিনি চান, মেয়েরা বড় হয়ে দেখুক যে তাদের মা নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। আর সেই শিক্ষা থেকেই তারা বিশ্বাস করুক, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে জীবনে কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au