বন্ধের দুই দশক পর জেএমবি নেতার মাদ্রাসা আবার সক্রিয় করল কারা?
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মাদ্রাসা প্রায় দুই দশক পর আবার…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একটি স্বনামধন্য ক্যাথলিক বালক বিদ্যালয়ের অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি মূল্যায়ন পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়েছে। শিক্ষকদের তদন্তে তাদের বক্তব্য বা বক্তৃতার খসড়া তৈরিতে এআই ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নম্বর কেটে দেওয়া হয়েছে।
ইস্টার্ণ মেলবোর্নের অবস্থিত স্বাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাজেনড কলেজে ঘটনাটি ঘটেছে। বিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি মৌখিক উপস্থাপনা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে বক্তৃতা লিখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই মূল্যায়নটি ভিক্টোরিয়ান সার্টিফিকেট অব এডুকেশন (ভিসিই) এর ইউনিট-৪ ইংরেজি বিষয়ের মোট নম্বরের ২০ নম্বরের অংশ। এতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিন থেকে পাঁচ মিনিটের একটি মৌখিক উপস্থাপনা প্রস্তুত ও উপস্থাপন করতে হয়। প্রাপ্ত নম্বর পরবর্তীতে তাদের সামগ্রিক ইংরেজি স্টাডি স্কোর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ব্যবহৃত অস্ট্রেলিয়ান টারশিয়ারি অ্যাডমিশন র্যাঙ্ক (এটিএআর) নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. পল শ্যানন জানান, দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি মৌখিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাজে এআই ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “কলেজ এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে যা থেকে বোঝা যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হয়েছে এবং ফলাফল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে তাদের নম্বর যথাযথভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করানো হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে এবং এআই ব্যবহারের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করবে।
ড. শ্যানন বলেন, “এআই সরঞ্জামের ব্যবহার বর্তমানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মূল্যায়ন ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে এর কোনো স্থান নেই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজস্ব জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্যায়নে অংশ নিতে হবে।”
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ান কাররিকুলাম এন্ড এসেসমেন্ট অথরিটি-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী নিজের কাজ নয় এমন কোনো লেখা জমা দিতে পারে না। একইভাবে চৌর্যবৃত্তি, অন্যের কাজ নকল করা বা অনুমোদনহীন সহায়তায় প্রস্তুত করা উত্তরও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এআই-নির্ভর কনটেন্ট ব্যবহারও একাডেমিক সততার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠদান ও শেখার কাজে এআই ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, তবে পরীক্ষামূলক মূল্যায়নে অনুমতি ছাড়া এআই ব্যবহার করলে তা নিয়ম ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ওপরই ন্যস্ত।
বিদ্যালয়টির একজন মুখপাত্র জানান, স্কুলভিত্তিক মূল্যায়নের প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।
মাজেনড কলেজে বর্তমানে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার মানের জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি গত বছর গড় এটিএআর স্কোর ৮০ দশমিক ৪৫ অর্জন করে। একই বছরে তাদের ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্তত একটি বিষয়ে ৪০-এর বেশি স্টাডি স্কোর অর্জন করেছিল।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ভিসিই লিখিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দিনেই অনুষ্ঠিত হবে তিন ঘণ্টাব্যাপী ইংরেজি পরীক্ষা। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের ঘটনা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে মূল্যায়ন পদ্ধতি আরও কঠোর করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au